odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা, বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৭:১৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৭:১৫

অধিকারপত্র ডটকম,জাতীয় ডেক্স,

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তির মতো খাতে আরও বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ আঞ্চলিক যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিজের পাশাপাশি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল ও ক্যান্সার চিকিৎসা

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় চীনের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতের শেষে রাষ্ট্রপতি বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।