odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার, পদ বাণিজ্য ও ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ; সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফাঁস হওয়া বহিষ্কারপত্র নিয়েও আম্মারের প্রশ্ন!

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৫০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৫০

অধিকারপত্র ডটকম শিক্ষা ডেক্স,

 রাবি প্রতিবেদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার, অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আম্মার। তার দাবি, তাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আম্মার বলেন, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী সহপাঠী বা জুনিয়রের সঙ্গে এমন আচরণ করেননি, যা ভাই-বোনের সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনো অর্থ বহন করে। এ বিষয়ে তার চরিত্র নিয়ে আলোচনা না করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাকসুতে আসা অনেক জুনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে ‘তুই’ সম্বোধনে কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রশিবিরের একজন শাখা দায়িত্বশীলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরবর্তী বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে নিজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করেন।

পদ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন আম্মার

অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মার দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় রাজশাহীর স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি কমিটি নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে আম্মারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে তিনি ওই কমিটি করিয়ে দিয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি হয়।

তবে আম্মারের ভাষ্য, ওই কমিটির আগে বা পরে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন রাকসুর জিএস।

তার দাবি, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে চাইলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অর্থায়নের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে আয়োজনের প্রস্তাবপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা জানান আম্মার। তার দাবি, পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবপত্রকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ছড়ানো হয়।

শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আম্মারের বক্তব্য

ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়েও দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন আম্মার।

তিনি দাবি করেন, শিবিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন এবং শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করার কথাও উল্লেখ করেছেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাকে কেউ শিবিরের ‘ক্রাইটেরিয়া’র মধ্যে ফেললে তিনি সেটি নিয়ে আপত্তি করেন না, কারণ তিনি ডানপন্থি সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত। তিনি কলরবের সঙ্গেও কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।

ফাঁস হওয়া বহিষ্কারপত্র নিয়ে প্রশ্ন

আম্মারকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের দাবি সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে আম্মারের দাবি, প্রকাশিত কাগজটি শিবিরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতেই ছিল এবং সেটি তারা তৈরি করতে পারেন। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হলেও কোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শিবিরের বক্তব্য

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান দাবি করেন, আম্মারকে বহিষ্কারসংক্রান্ত প্রকাশিত চিঠিগুলো সত্য। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই সালাহউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, আম্মার তার বক্তব্যে শিবিরের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

রাকসু নির্বাচন ঘিরেও আলোচনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার।

ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আম্মারের শিবির-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলকে ঘিরে আগের বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে আম্মারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো বিচারিক বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের তথ্য এখানে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণিত তথ্য—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

SEO সাবহেডলাইন:
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার, পদ বাণিজ্য ও ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ; সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

Facebook ভাইরাল হেডলাইন:
শিবির থেকে বহিষ্কার, ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ—রাকসু জিএস আম্মার যা বললেন

#সালাহউদ্দিনআম্মার #রাকসু #রাজশাহীবিশ্ববিদ্যালয় #রাবি #ছাত্রশিবির #রাকসুনির্বাচন #পদবাণিজ্য #চাঁদাবাজি