odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 7th October 2026, ৭th October ২০২৬
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি; ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য

বাংলাদেশে টয়োটার হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন, ২০২৭ সালে শুরু কার্যক্রম

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ October ২০২৬ ২৩:২৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ October ২০২৬ ২৩:২৪

অধিকার পত্র ডেস্ক:

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা

বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রতিনিধিদল জানায়, এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

টয়োটার বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২৭ সালে হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদনের কাজ শুরু

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (HEV) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে নেওয়া এই উদ্যোগ ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে গাড়ি উৎপাদন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব বিভাগে টয়োটার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক

টয়োটা বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করতে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এছাড়া বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে টয়োটার আগ্রহ

বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে টয়োটা বাংলাদেশ। বিশেষ করে তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে যারা ছিলেন

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।