odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 8th October 2026, ৮th October ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও তার পিএসকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে ৫০–৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা; বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম গ্রেপ্তার।

রামেবি ভিসিকে ‘মব’ করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৭ October ২০২৬ ২০:০৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৭ October ২০২৬ ২০:০৯

অধিকারপত্র ডটকম | রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও তার একান্ত সচিব (পিএস) এবং হিসাব শাখার সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে ‘মব’ করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরে রাতেই নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল লুট এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কী ঘটেছিল রামেবিতে

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতার উপাচার্য ঘেরাও’ কর্মসূচি চলাকালে ভিসিকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনা ঘটে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ওই কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানা গেছে।

ভিসির অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তার অফিসে জোর করে প্রবেশ করে তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। পরে তাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা দেওয়া হয়।

ভিসি দাবি করেন, তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক এবং কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

‘অস্ত্রের মুখে স্বাক্ষর করানো হয়েছে’: পিএস

ভিসির একান্ত সচিব ও হিসাব শাখার সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, আন্দোলনের নামে আসা ব্যক্তিদের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, এটি স্বাভাবিক বা স্বেচ্ছায় দেওয়া কোনো পদত্যাগপত্র নয়; বরং ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে তাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে।

ভিসির সংবাদ সম্মেলন

ঘটনার পর বিকেলে নিজের সরকারি বাংলোর সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক।

তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই কিছু ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ভিসির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি তার অফিসে ঢুকে তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে লাঞ্ছিত করেন। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভিসিকে অপমান, লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সর্বস্তরের চিকিৎসকদের ব্যানারে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রামেবির ভিসিকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করা হয়।

ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

ঘটনার পর থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে এলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন রামেবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম।

এদিকে মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।