odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 12th October 2026, ১২th October ২০২৬
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত ও বহিষ্কার নিয়ে মুখ খুললেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য

বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া’: রুমিন ফারহানা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:৪৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

‘বিএনপির সিদ্ধান্তটা ছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার’—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, দল থেকে বহিষ্কার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। রোববার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়। 

টকশোর উপস্থাপক তাঁকে প্রশ্ন করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির পক্ষে কথা বলার পর হঠাৎ কেন তাঁর প্রতি দলের এমন অবস্থান তৈরি হলো। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো কর্মী যখন তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চেয়ে বেশি দক্ষ বা যোগ্য হিসেবে প্রতীয়মান হন, তখন সেই কর্মকর্তা তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। বিএনপির সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও তিনি এমন একটি তুলনা তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, এ ঘটনা নিয়ে সাত মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে এবং তিনি অনেক দিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।

সংরক্ষিত আসনে আটকে রাখা হতো কি না, জানি না’

বিএনপিতে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, দল তাঁকে আবারও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিত কি না, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে সংরক্ষিত আসনে রেখে দেওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত আট-নয় বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় কাজ করেছেন। এলাকার মানুষের মনোভাব ও নির্বাচনী পরিস্থিতি বুঝেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের সঙ্গে কথা না বলে এবং নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি না বুঝে কি কেউ নিজের পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাজি রাখতে পারেন?

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে দলকে কেন আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 খালেদা জিয়ার দায়িত্ব প্রসঙ্গে যা বললেন

টকশোর উপস্থাপক রুমিন ফারহানাকে স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর তিনি বলেছিলেন, খালেদা জিয়া তাঁর ওপর লড়াইয়ের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তা পালন করবেন।

উপস্থাপক জানতে চান, বিএনপির স্বার্থ রক্ষা করাও কি সেই দায়িত্বের অংশ নয়?

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আলোকে তাঁর কাছে দেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। তিনি সেই বিবেচনা থেকেই কাজ করছেন বলে জানান।

 কেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন রুমিন ফারহানা?

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুমিন ফারহানা। আসনটিতে বিএনপি তাদের জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়েছিল।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাসহ বিএনপির নয় নেতাকে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। 

পরে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন রুমিন ফারহানা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। 

দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া থেকে বহিষ্কার, এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়—এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বিএনপির সিদ্ধান্ত নিয়ে রুমিন ফারহানার নতুন মন্তব্য রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

তবে বিএনপির নেতৃত্ব তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—এটি রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও অভিযোগ। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।