odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 20th October 2026, ২০th October ২০২৬
নিজের সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা ভেবে পুরো রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান; নগর ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জরুরি তথ্য পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৯ October ২০২৬ ১৭:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৯ October ২০২৬ ১৭:০৪

বিশেষ প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

নিজের সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু নিজের বাসা বা এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করলেই হবে না, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না। স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই সন্তানের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে পুরো নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এক দিন বা সাত দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখলে সফলতা আসবে। এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।

 দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

নগরীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একইভাবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গা থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে নগরীর পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও ষাট ও সত্তরের দশকে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে আফসোস করে বসে না থেকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 ঢাকার পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা উন্নতি

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে বলে তাঁকে জানিয়েছেন। তারেক রহমানের মতে, এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নগরীর সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালন করছেন, তা-ও মূল্যায়ন করতে হবে।

 জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন

এর আগে নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুমানের তথ্য পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন তিনি।

জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্র দেখেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।