আন্তর্জাতিক | ৫ নভেম্বর ২০২৬
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বেতন-ভাতা, শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিভিন্ন শহরে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। মার্সেই, গ্রেনোবল ও লিয়নসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। রাজধানী প্যারিসেও বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
বিক্ষোভের পেছনে যেসব দাবি
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও সব খাতে বেতন বাড়ানো।
* জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।
* করব্যবস্থায় সংস্কার।
* শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা।
* সরকারি কর্মীদের বেতন ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা।
* সরকারি সেবা খাতে ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা।
এই আন্দোলনে শিক্ষক, রেলকর্মী, হাসপাতালের কর্মী, ডাক বিভাগের কর্মী এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ
কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন। প্যারিসে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের সমাবেশের প্রত্যাশা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত শিক্ষার্থীসংখ্যা, overcrowded classrooms এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফরাসি সরকারের হিসাবে, বৃহস্পতিবার ৮১টি উচ্চবিদ্যালয় বিক্ষোভের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর দাবি, এই সংখ্যা প্রায় এক হাজার। দুই পক্ষের হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
পরিবহন ও জনসেবায় অচলাবস্থার আশঙ্কা
ধর্মঘটের কারণে রেল যোগাযোগ, বন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান SNCF আঞ্চলিক রেলপথ এবং প্যারিসের আশপাশের কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের কথা জানিয়েছে।
লিয়নে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। The Guardian +1
ম্যাক্রোঁ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য এই আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবির সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে।
এদিকে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের সমালোচনা করে দেশটির প্রধান রেল শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলেছে, এতে দারিদ্র্য বাড়তে পারে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে সমাবেশ সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
ফ্রান্সের এই আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষার্থী বা শ্রমিকদের পৃথক দাবি নয়; বরং জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি সেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অসন্তোষের সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল রাজপথ! লাখো মানুষের বিক্ষোভ, পরিস্থিতি সামলাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ফ্রান্সে কী ঘটছে? জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বেতন-ভাতা ও শিক্ষা খাতের সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে ৭০ হাজার পুলিশ। ধর্মঘটের প্রভাবে রেল, শিক্ষা ও সরকারি সেবায় দেখা দিয়েছে বিঘ্নের আশঙ্কা।
কেন উত্তাল ফ্রান্স? বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।
#FranceProtest #FranceStrike #EmmanuelMacron #FranceNews #WorkersProtest #StudentProtest #CostOfLiving #WorldNews #Odhikarpatra
The Guardian
