odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 3rd February 2026, ৩rd February ২০২৬
ঢাকা কলেজ এইচএসসি–৯৫: সময়, স্মৃতি, দর্শন ও এক আজন্ম মানবিক বন্ধনের মহাকাব্যিক উপাখ্যান

বন্ধুত্ব যেখানে গান হয়ে ওঠে

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ December ২০২৫ ২৩:৫৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ December ২০২৫ ২৩:৫৪

—বিশেষ ফিচার

ঢাকা কলেজ এইচএসসি–৯৫ ব্যাচের বন্ধুত্ব, ১৯৯৩–৯৫ সালের স্মৃতি, “Know Thyself” দর্শন, স্মরণিকা, গান ও মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রচিত এই ফিচারটি এক গভীর সাহিত্যিক দলিল। সময়ের ওপারে টিকে থাকা বন্ধুত্বের গল্প এখানে নস্টালজিয়া নয়, বরং এক প্রজন্মের আত্মকথা। যেন কবিগুরুর সেই অমর উচ্চারণ— “শূন্য করে ভরে দেওয়া যাহার খেলা, তাহার সাথে সারা বেলা।”

— কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলোকে ক্যালেন্ডারের পাতায় মাপা যায় না। কিছু বন্ধুত্ব আছে, যেগুলো সময়ের সাথে পুরোনো হয় না; বরং সময় পেরিয়ে আরও গভীর হয়। ঢাকা শহরের এক ব্যস্ত সন্ধ্যায়, গাড়ির হর্ন আর মানুষের ভিড়ের ভেতর হঠাৎ যদি কোথাও ভেসে আসে একটি গান—“We are friends, we are friends forever, we are DC 95…”

তখন যারা ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫–এর মাঝামাঝি কোনো এক সকালে ঢাকা কলেজের লাল দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের বুকের ভেতর নীরবে কিছু একটা কেঁপে ওঠে। সে কাঁপুনি নস্টালজিয়ার। সে কাঁপুনি বন্ধুত্বের। এক একটি কাঁপুনি যেন রূপ নেয় এক অমর গানে। এই গান শুধু গান নয়—এটি একটি সময়ের দরজা, একটি প্রজন্মের আত্মকথা।

বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু

এই লেখা শুরু করার আগে অনেকবার নিজেকে প্রশ্ন করেছি—আসলে কেন এই লেখা?

সময় তো থেমে নেই। জীবন এগিয়ে গেছে। বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়েছে দেশ–বিদেশে। কাজ, দায়িত্ব, পরিবার—সবকিছু মিলিয়ে স্মৃতির জন্য আলাদা সময় বের করাই আজ বড় বিলাসিতা। তবু এই বন্ধুত্বের গাথা লেখা জরুরি। কারণ কিছু স্মৃতি বিলাসিতা নয়—দায়। কিছু সম্পর্ক কেবল ব্যক্তিগত নয়—প্রজন্মগত।

ঢাকা কলেজ এইচএসসি–৯৫ ব্যাচের বন্ধুত্ব তেমনই একটি সম্পর্ক। এটি শুধু কয়েকজন মানুষের একসঙ্গে পড়াশোনার ইতিহাস নয়। এটি একটি সময়ের, একটি মানসিকতার, একটি শিক্ষাদর্শের দলিল। এই বন্ধুত্বের মহাকাব্য কোনো একক মানুষের নয়। এটি সবার। ভালো থাকলে কৃতিত্ব সবার, আর কোনো ভুল থাকলে দায় আমার। সবচেয়ে বড় কথা—এই লেখা বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হয়েছে, আর বন্ধুত্ব দিয়েই শেষ হোক।

১৯৯৩১৯৯৫: জীবন নামের ক্লাসে নিয়মিত ছাত্র

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫—এই দুই বছর আমাদের অনেককেই হয়তো ক্লাসরুমে খুব নিয়মিত পায়নি। কিন্তু এই দুই বছর আমাদের সবাইকে জীবন নামের ক্লাসে নিয়মিত ছাত্র বানিয়েছিল।

এই লেখা কোনো বীরত্বগাথা নয়। এখানে কেউ নিজেকে নায়ক বানাতে আসেনি। এখানে এসেছে মানুষ—ভুলসহ, অসম্পূর্ণতাসহ, স্মৃতিসহ। এই সময় বন্ধুত্বকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে চায়। কারণ বন্ধুত্ব ভাঙলে শুধু সম্পর্ক নয়, স্মৃতিও ভেঙে পড়ে। তাই এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিভাজনের ভাষা নেই। এখানে আছে কেবল—“Know Thyself”: নিজেকে জানো, তারপর অন্যকে বোঝো। এই লেখা যদি কাউকে সাময়িকভাবে হলেও ব্যস্ত জীবনের ভেতর থেকে ১৯৯৩–৯৫–এর কোনো এক বিকেলে ফিরিয়ে নিতে পারে, যদি কেউ হঠাৎ কোনো নাম পড়ে থমকে যায়, যদি কারও চোখের কোণে অকারণে জল জমে—তাহলেই এই লেখার অস্তিত্ব সার্থক।

সময়ের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু সম্পর্ক

সময়কে আমরা সাধারণত ক্যালেন্ডারের পাতায় দেখি—তারিখ বদলায়, বছর বদলায়, মানুষ বদলায়। কিন্তু কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলো সময়ের ভেতরে থেকেও সময়ের বাইরে বাস করে।

ঢাকা শহরের এক ব্যস্ত সন্ধ্যায়, ট্রাফিকের শব্দে যখন কান ঝালাপালা, অফিসফেরত মানুষের চোখে যখন ক্লান্তি, ঠিক তখনই যদি কোথাও ভেসে আসে একটি গান— “Know thyself, my friend…”

তখন কিছু মানুষ হঠাৎ থমকে যায়। তারা নিজেরাও জানে না, কেন বুকের ভেতর ভারী হয়ে আসে, কেন চোখের কোণে জল জমে। এই লেখা সেই না–জানা কান্নার গল্প। এই লেখা একটি প্রজন্মের আত্মকথা।

১৯৯৩: অনিশ্চয়তার গেট পেরিয়ে স্বাধীনতার ভেতরে

১৯৯৩ সাল। বাংলাদেশ তখনো রূপান্তরের ভেতর। আর সেই সময়েই একদল কিশোর–তরুণ ঢুকে পড়ল ঢাকা কলেজের গেট দিয়ে। কেউ তখনো জানে না— কে ডাক্তার হবে, কে ইঞ্জিনিয়ার, কে দেশ ছেড়ে যাবে, কে দেশে থাকবে। অনেকে জানে না, আদৌ কিছু হবে কি না। কিন্তু ঢাকা কলেজ সেই অনিশ্চয়তাকে ভয় পায়নি। বরং সে অনিশ্চয়তাকেই আশ্রয় দিয়েছে। ঢাকা কলেজে ঢুকেই প্রথম যে বিষয়টি বোঝা যায়, তা হলো— এখানে মানুষকে আগে মানুষ হিসেবে দেখা হয়, ছাত্র হিসেবে নয়।

ক্লাসরুম নয়, করিডরই ছিল জীবনের পাঠশালা

অনেকে নিয়মিত ক্লাস করত না। এই সত্যটা লুকোনোর দরকার নেই। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো— ঢাকা কলেজের কোনো ছাত্রই নিয়মিত জীবন থেকে অনুপস্থিত ছিল না। কারণ শিক্ষা এখানে সীমাবদ্ধ ছিল না বোর্ডে লেখা অংকে। শিক্ষা এখানে ছড়িয়ে ছিল করিডরে, মাঠে, ক্যান্টিনে, চায়ের দোকানে। বন্ধু অসুস্থ হলে সবাই মিলে হাসপাতালে যাওয়া— এটাই ছিল সহমর্মিতার পাঠ। একজনের পকেট ফাঁকা হলে বাকিরা চাঁদা তুলে দেওয়া— এটাই ছিল অর্থনীতির প্রথম পাঠ। নোটের জন্য একজনকে প্রাইভেট পড়তে পাঠানো— এটাই ছিল সহযোগিতার পাঠ।

Sense Training: ঢাকা কলেজের নীরব দর্শন

শিক্ষাবিদ যোহান হেনরিক পেস্তালৎসি বলেছিলেন, “Sense training is the first and foremost training.” ঢাকা কলেজ এই sense training দিয়েছিল শব্দ না করেই। এখানে শেখানো হয়নি, কী ভাবতে হবে। শেখানো হয়েছিল, কীভাবে ভাবতে হয়। এই ভাবনার মধ্যেই গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব— যা ছিল সমানাধিকারভিত্তিক, যা ছিল পারস্পরিক নির্ভরতার, ম্রদ্ধার ও আস্থার।

ক্যান্টিন, রাজ্জাকের চায়ের দোকান অঘোষিত সংসদ

ঢাকা কলেজের ক্যান্টিন কোনো সাধারণ খাবারের জায়গা ছিল না। এটি ছিল এক অঘোষিত সংসদ। রাজ্জাকের চায়ের দোকানে বসে দেশ নিয়ে তর্ক হতো। কেউ জিতত না, কেউ হারত না। সবাই শুধু শিখত—ভিন্নমত থাকা মানেই শত্রুতা নয়। মোহন চাঁদ বা যাদব ঘোষের মিষ্টি ছিল উৎসবের উপলক্ষ। বলাকা বা বিনাকায় সিনেমা দেখা ছিল সম্মিলিত আনন্দ। এই জায়গাগুলোতেই গড়ে উঠেছিল সেই বন্ধন,যা পরে কোনো অফিসের কেবিন ভাঙতে পারেনি।

“Know thyself”: একটি প্রতিষ্ঠানের আত্মলিপি

ঢাকা কলেজের দেয়ালে খোদাই করা “Know Thyself” কোনো আলংকারিক লেখা নয়। এটি একটি আত্মলিপি। — এই বাণীর উৎস প্রাচীন গ্রিসের ডেলফি। এ্যাপোলো মন্দিরে খোদাই করা এই বাক্যটি মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর নৈতিক আহ্বানগুলোর একটি। নিজেকে জানো—তারপরই অন্যকে বোঝা সম্ভব। ডেলফিক ম্যাক্সিমসে আরও বলা হয়েছিল— Help your friends; Love friendship; Be kind to friends;Guard friendship. ঢাকা কলেজ এইচএসসি–৯৫ ব্যাচ এই বাণীগুলোকে মুখস্থ করেনি। তারা বেঁচে ছিল এই বাণীগুলো দিয়ে।

১৯৯৫: বিদায়ের বছর, কিন্তু শেষ নয়

১৯৯৫ আসে। ঢাকা কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। কেউ ভাবে, এখানেই শেষ। কিন্তু আসলে এখানেই শুরু। বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়ে— কেউ দেশে, কেউ বিদেশে। কেউ সফল, কেউ সংগ্রামী। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো— সময় যত যায়, বন্ধুত্ব তত গভীর হয়।

স্মৃতি থেকে সংগঠন: DC HSC–95 Society

২০১৬ সালের ৩০ মে। একটি তারিখ, যা বন্ধুত্বকে আনুষ্ঠানিক নাম দেয়। DC HSC–95 Society কোনো ক্ষমতার কাঠামো নয়। এটি একটি স্মৃতিভিত্তিক মানবিক সংগঠন। এর মূলমন্ত্র— Few Relations in Earth Never Die.
এটি একটি বিশ্বাস। একটি প্রত্যয়।

স্মরণিকা: কাগজে বাঁধা সময়

ডিসি ৯৫ সোসাইটর ইতিহাসে প্রথম স্মরণিকাটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয ড. মাহবুব লিটুর সম্পাদনায় এবং বন্ধুদের সহযোগিতায়। এই স্মরণিকাটি শুধু বই নয়। এটি ছিল একটি টাইম মেশিন। বন্ধুদের সাহিত্যকর্ম, সকল সদস্যের পূর্ণ ডিরেক্টরি—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক প্রজন্মের দলিল। ব্যস্ত নগর জীবনে ক্লান্ত মানুষদের জন্য এই বই হয়ে ওঠে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা। এই স্মরণিকায় কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নেই। ইচ্ছাকৃতভাবেই নেই। কারণ বন্ধুত্ব রাজনীতির ঊর্ধ্বে। ঢাকা কলেজের নীতিই বলে—বন্ধুত্বকে রক্ষা করো। প্রথম স্মরণিকার পরে 2019 সালে ২য় এবং ২০২১ সালে তৃতীয় স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে।

কেন গান জরুরি হয়ে উঠল

সব অনুভূতি লেখা যায় না। কিছু অনুভূতির জন্য সুর লাগে। “Know Thyself, My Friend” গানটি তাই কেবল সংগীত নয়। এটি একটি সমবেত প্রার্থনা। এটি বলে— তুমি একা নও। তুমি ছিলে, আছো, থাকবে—বন্ধুর মাঝে। বন্ধুত্বের মহিমা আরো বিকশিত করতে, সুরের মাঝে তুলে ধরতে সংগীতের আয়োজন। ঢাকা কলেজ ৯৩–৯৫: শুধু এক ব্যাচ নয়, একটা জীবনের দর্শন। আর এই ঢাকা কলেজ HSC 93–95 ব্যাচের বন্ধুত্ত্বের লাল দেয়ালের পথে হেটে যারা হৃদয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের জন্য সাতটি গানের সমাহারে এই হৃদয়ছোঁয়া সংগীত এলবাম উৎসর্গ করা হয়েছে।

আর এই এলবামের শিরোনাম: Friendship Song Tribute – Dhaka College HSC-95 Society। বন্ধুত্বের সংগীত– ঢাকা কলেজ HSC-95 সোসাইটি । নস্টালজিক ফোক থেকে শুরু করে রক–পপ–কান্ট্রি ফিউশন—এই প্লেলিস্টের প্রতিটি গান তুলে ধরে DC HSC-95 Society-র আত্মা, ইতিহাস, ও ভালোবাসার বন্ধন। বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে লেখা গানগুলোয় উঠে এসেছে বন্ধুত্বের আসল গল্প, আসল নাম, আর সত্যিকারের আবেগ। তাই এই এলবামটি হচ্ছে শূন্য করে ভরে দেওয়া বন্ধুত্বের খেলা।

Listen & Enjoy 🎧 YouTube Music Album: Friendship Song Tribute – Dhaka College HSC-95 Society । বন্ধুত্বের সংগীত– ঢাকা কলেজ HSC-95 সোসাইটি

সময় অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু শূন্য করে আবার ভরেও দিয়েছে। এই বন্ধুত্ব ক্ষয় নয়। এটি পুনর্গঠন। এই এলবামে থাকছে:

Track 1. At Your Side – DC HSC-95 (English Song)
Track 2. তোদের পাশে – ডিসি এইচএসসি-৯৫ (Bangla Song)
Track 3. “Know Thyself, My Friend” (Both Bangla + English song)
Track 4. “Know Thyself, My Friend”(English Song)
Track 5. বন্ধুত্বের জয় হোক – ডিসি HSC-95 (Bangla Song)
Track 6. Long Live Friendship – DC HSC-95 (English Song)
Track 7. Friends Forever – বন্ধুত্ব চিরন্তন (Bilingual Song)

শেষ কথা: বন্ধুত্বই চূড়ান্ত উত্তর

এই অধ্যায় নস্টালজিয়া নয়। এটি সাক্ষ্য। শিক্ষা মানে শুধু নম্বর নয়। শিক্ষা মানে মানুষ হওয়া। ঢাকা কলেজ সেই মানুষ হওয়াটাই শিখিয়েছিল। বন্ধুত্বের রঙ কী—লাল, সাদা না নীল? জানা নেই। কিন্তু এটা জানা আছে—ডিসি এইচএসসি–৯৫ মানে অসংখ্য দেহে এক আত্মা। সময় যাবে, স্মৃতি ঝাপসা হবে, তবু এই বন্ধন থাকবে। কারণে–অকারণে দেখা হবে। অভিমানে, বৈরিতায়ও পাশে থাকা হবে। কারণ কিছু বন্ধুত্ব সময়ের ঊর্ধ্বে। আজও, এত বছর পর, হৃদয়ের গভীরে একটি প্রার্থনা প্রতিধ্বনিত হয়— আবার পেতাম যদি ফিরে, হারিয়ে যেতাম সেই ঢাকা কলেজের বন্ধুদের ভীড়ে।

উত্তরকথন (Afterword): শেষ পাতা, কিন্তু শেষ নয়

বইয়ের শেষ পাতা মানেই শেষ—এই ধারণাটি এই বই মানতে চায় না। কারণ এই বই শেষ হলেও, বন্ধুত্ব শেষ হয়নি। বরং এই বই শেষ হওয়ার পরই হয়তো অনেক গল্প আবার শুরু হবে। কেউ হঠাৎ কাউকে ফোন করবে, কেউ পুরোনো ছবি খুঁজে বের করবে, কেউ হয়তো অনেক বছর পর প্রথমবার লিখবে—“কেমন আছিস?”
এই সোসাইটির সবচেয়ে বড় সাফল্য যদি কিছু হয়, তা হবে এই প্রশ্নের জন্ম দেওয়া। এই অনুষ্ঠান আমাদের মনে করিয়ে দিতে চায়—
শিক্ষা কেবল সার্টিফিকেট নয়, শিক্ষা মানুষ হওয়া। ঢাকা কলেজ আমাদের সেই মানুষ হওয়াটাই শিখিয়েছিল। ক্লাসে নয়, করিডরে। পাঠ্যসূচিতে নয়, আড্ডায়। পরীক্ষায় নয়, বন্ধুত্বে। এই সম্পর্ক কোনো নিখুঁত ইতিহাস নয়। এটি স্মৃতির এলবাম। আর স্মৃতি কখনো নিখুঁত হয় না—স্মৃতি মানবিক। কেউ এখানে কম পেয়েছে, কেউ বেশি। কেউ বাদ পড়েছে, কেউ বেশি এসেছে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ বন্ধুত্ব গণিত নয়। এটি অনুভব। এই সোসইটি যেন একটি বই, আর এই বইয়ের প্রতিটি পাতার ভেতর দিয়ে একটি নীরব প্রার্থনা ভেসে বেড়ায়—

যেন আমরা একে অপরকে হারিয়ে না ফেলি। যেন নামগুলো কেবল তালিকায় না থেকে মানুষের হয়ে থাকে। যেন আমরা ভবিষ্যতেও একে অপরের খবর রাখি। সবশেষে শুধু এটুকুই বলা যায়— সময় আমাদের বদলাতে পারে, কিন্তু এই বন্ধনকে নয়। এই বই শেষ হলো। কিন্তু গল্প চলুক।

ঢাকা কলেজ এইচএসসি–৯৫ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।
Long live our DC HSC–95 friendship.

✍️ অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু
উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র
📧 odhikarpatranews@gmail.com

#DC95Reunion2025 #ঢাকাকলেজবন্ধুত্ব #FriendshipForever #DC95Society #বন্ধুত্বেরজয়হোক #ReunionStory #OdhikarpatraSpecial #KnowThyselfDC95 #DC95FriendshipSong #DC95Album #BanglaFriendshipSong #বন্ধুত্বেরগান #তিনদশকেরবন্ধন #FamilyReunion #বন্ধুমেলা২০২৫ #LearningBdFun #Odhikarpatraবিনোদন #DC1995Celebration #বন্ধুরআড্ডা #বন্ধুত্বরস্মৃতি



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: