নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
জেফরি এপস্টাইন যৌন কেলেঙ্কারি মামলার প্রায় ৩০ লক্ষ পাতার নতুন নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ)। শুক্রবার প্রকাশিত এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারে রয়েছে অসংখ্য ইমেইল, ছবি এবং ভিডিও, যা বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে এই দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর ঘনিষ্ঠতার নতুন চিত্র সামনে এনেছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এই নথি প্রকাশ তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার বদলে উল্টো নতুন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ন্যায়বিচারের আশা ক্ষীণ
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রবিবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন এই নথিপত্র থেকে নতুন করে কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেননথিতে অনেক ভয়াবহ ছবি বা ইমেইল থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেগুলো কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত বা প্রসিকিউট করার জন্য যথেষ্ট। সরকারের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। ড্যানিয়েল বেনস্কি নামক এক সারভাইভার বলেন, ভুলবশত অনেক ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ তাদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যদি আমরাই সুরক্ষিত না থাকি, তবে এই নথি প্রকাশ করে কাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটনকে নিয়ে বিতর্ক
প্রকাশিত নথিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ১,০০০ বারের বেশি এসেছে। এর মধ্যে এফবিআই-এর অপ্রমাণিত কিছু অভিযোগের নোটও রয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই ফাইলগুলো তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে এপস্টাইনের গভীর সখ্যতার প্রমাণ হিসেবে ১৬ বার তার বিমানে ভ্রমণের তথ্য এবং বিতর্কিত কিছু ছবি নতুন করে সামনে এসেছে। আগামী সপ্তাহে ক্লিনটন দম্পতিকে এপস্টাইন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার জন্য কংগ্রেস একটি অবমাননা প্রস্তাবের ওপর ভোট দিতে পারে।
ইলন মাস্ক ও হাওয়ার্ড লুটনিকের সংশ্লিষ্টতা
প্রযুক্তি মোঘল ইলন মাস্ক এবং বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও এই নথিতে দেখা গেছে। ২০১২ এবং ২০১৩ সালের ইমেইলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, মাস্ক এপস্টাইনের দ্বীপে আয়োজিত ওয়াইল্ড পার্টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। যদিও মাস্ক দাবি করেছেন তিনি এপস্টাইনের আমন্ত্রণ সবসময় প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইভাবে লুটনিকের পক্ষ থেকে দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনার ইমেইল পাওয়া গেছে, যা তার আগের দেওয়া বিবৃতির সাথে সাংঘর্ষিক।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: বিপাকে ব্রিটিশ রাজপরিবার
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর একটি বিতর্কিত ছবি এই নথিতে পাওয়া গেছে, যেখানে তাকে মেঝেতে থাকা এক নারীর ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত মার্কিন কংগ্রেসের সামনে উপস্থিত হয়ে তার এবং এপস্টাইনের সম্পর্কের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তদন্তের দাবি
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্না এবং জেমি রাসকিন বাইডেন প্রশাসনের এই নথি প্রকাশের প্রক্রিয়াকে 'অসম্পূর্ণ' এবং 'স্ক্যান্ডাল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, এখনো অর্ধেক নথি গোপন রাখা হয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন যে, বিচার বিভাগ যদি পূর্ণ সহযোগিতা না করে তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিশংসনের (Impeachment) মুখে পড়তে হতে পারে। নথি প্রকাশ যতটা না আইনি সমাধান দিচ্ছে, তার চেয়ে বেশি নৈতিক প্রশ্ন তুলছে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা ও নৈতিকতা নিয়ে। এপস্টাইন মারা গেলেও তার ফেলে যাওয়া রহস্যের ছায়া এখনো বিশ্ব রাজনীতি ও করপোরেট জগতকে তাড়া করে ফিরছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: