odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 21st September 2026, ২১st September ২০২৬
শৈশব থেকে বার্ধক্য—কোন বয়সে কোন খাবার শরীরের জন্য বেশি উপকারী, জানাচ্ছে বিজ্ঞান

শৈশব থেকে বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে কেন পাল্টে ফেলতে হবে আপনার ডায়েট

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৪ January ২০২৬ ০০:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৪ January ২০২৬ ০০:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই আমরা সবাই জানি। কিন্তু জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শরীরের পুষ্টির চাহিদা কি একই থাকে? বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের গুরুত্ব অনেক বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা এবং পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতামতে উঠে এসেছে জীবনচক্রের বিশেষ কিছু পুষ্টির গোপন সূত্র।

শৈশবের ১০০০ দিন: ভবিষ্যতের রক্ষা কবচ

একটি শিশু গর্ভে আসার পর থেকে জন্মের প্রথম ১০০০ দিন পর্যন্ত সময়কালকে বলা হয় শরীর গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় ১৯৫১-১৯৫৬ সালের যুক্তরাজ্যের রেশন কার্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব শিশু শৈশবে কম চিনি খেয়ে বড় হয়েছে, প্রাপ্তবয়সে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২০% এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩১% পর্যন্ত কম। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের পুষ্টি বিজ্ঞানী ফেডেরিকা আমাতি বলেন, শিশুদের উচ্চ শক্তির চাহিদার কারণে তাদের পুষ্টিঘন খাবার প্রয়োজন। এই সময়ে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, কারণ এটি হাড়ের মজবুত কাঠামো তৈরি করে যা ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

২০-এর কোঠা: অভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্য

কৈশোর ও যৌবনের শুরুতে হাড় ও পেশি গঠনের কাজ সম্পন্ন হয়। এই সময়ে যারা ডায়েটে বেশি সবজি, ডাল জাতীয় খাবার, বাদাম এবং অলিভ অয়েল রাখে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরানিয়ান ডায়েট অনুসরণ করলে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা সহজ হয়। এছাড়া, যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন সবুজ শাক ও ব্রকলি অত্যন্ত জরুরি।

মধ্যবয়স ও মেনোপজের প্রস্তুতি

চল্লিশের কোঠায় পা দিলে বিশেষ করে নারীদের ডায়েটে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। মেনোপজের সময় ওস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধি এবং হাড়ের ঘনত্ব কমার ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি সামলাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (তৈলাক্ত মাছ) এবং উচ্চমানের প্রোটিন ডায়েটে যুক্ত করা উচিত। এটি হৃদপিণ্ডকে সচল রাখার পাশাপাশি শরীরের পেশি ক্ষয় রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

বার্ধক্য: অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও শতায়ু হওয়ার রহস্য

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের শক্তি বা ক্যালোরির চাহিদা কমে গেলেও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়। শতায়ু ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, তাদের অন্ত্রে বা 'গাট মাইক্রোবায়োম'-এ বিশেষ এক ধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া (F. prausnitzii) সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি থাকে। বার্ধক্যে সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা আঁশযুক্ত (Fiber) খাবার এবং পলিফেনল সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সুস্থ অন্ত্র কেবল হজমেই সাহায্য করে না, এটি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক অ্যাসিড তৈরি করতেও সক্ষম।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পুষ্টিবিদদের মতে, শৈশবে দুধ, দই বা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন জরুরি। তেমনি বয়স বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির দিকে নজর দিতে হবে। তবে বয়স যাই হোক না কেন, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করা এবং প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করাই হলো সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র