odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 1st May 2026, ১st May ২০২৬
সমুদ্রে ত্রাণবাহী জাহাজ আটক আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী; অবরোধ তুলে সহায়তা প্রবেশের আহ্বান

গাজায় ত্রাণে বাধা, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা জাতিসংঘের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ May ২০২৬ ২০:১৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ May ২০২৬ ২০:১৩

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ-এর মানবাধিকার দপ্তর ইসরায়েলকে জীবনরক্ষাকারী ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিদেশি বেসামরিক জাহাজ আটকানো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজার দিকে যাওয়া নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজ আটকের ঘটনা নতুন নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খোলা সমুদ্রে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং খুব সীমিত পরিস্থিতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ আটকানো যায় না।

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ, বলপ্রয়োগ এবং আটকের শর্তাবলি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার—বিশেষ করে আটক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ—নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েল-এর দায়িত্ব রয়েছে বেসামরিক জনগণের খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ মানবিক সহায়তা দ্রুত ও বাধাহীনভাবে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটি ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজার অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা প্রবেশে সব ধরনের বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ‘গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি ত্রাণবাহী নৌবহরের ২০টিরও বেশি নৌকা জব্দ করেছে। বহরটির মোট জাহাজ সংখ্যা ছিল ৫০টির বেশি এবং এগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমা হয়ে গাজার দিকে যাচ্ছিল।

অভিযানটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ-এর নিকটবর্তী সমুদ্রে পরিচালিত হয়, যা ইসরায়েল থেকে শত শত নটিক্যাল মাইল দূরে। জব্দ হওয়া নৌযানগুলোতে থাকা কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ত্রাণবাহী বহরের প্রথম জাহাজগুলো ১২ এপ্রিল স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং মূল বহরটি ২৬ এপ্রিল ইতালির সিসিলি থেকে রওনা দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলমান গাজা অবরোধ ভাঙা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এতে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অঞ্চলটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।

যদিও গত অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ রয়ে গেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: