প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম
জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ জুন) বিকেলে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, যারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চায় এবং একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ এখানে সিনেমা হল নেই, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। ২০২১ সালে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গনেও হামলা হয়েছিল। এখন একটি পারিবারিক সিনেমার প্রদর্শনীও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’
সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি দেখেছেন উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গতকাল আমি সিনেমাটি দেখেছি। এটি চমৎকার একটি সিনেমা। পরিবারের শিশু, কিশোর, তরুণ, বৃদ্ধ—সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারে। তাহলে এই সিনেমা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো?’
সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক লুট বন্ধ করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধে সহায়তা করবে—এ প্রশ্ন মানুষের মনে জাগতেই পারে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যাদেরকে আজ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাহস পাচ্ছে, একদিন তারাই আপনাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।’
রুমিন ফারহানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেন তার সাংস্কৃতিক রাজধানীর পরিচয় হারিয়ে না ফেলে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। তবে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা করে প্রচারণা চালানো হয়। পরে কসবা উপজেলার একটি স্কুল মাঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল রুমিন ফারহানা বনলতা এক্সপ্রেস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: