odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 6th June 2026, ৬th June ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের আহ্বান

ভোলার গ্যাস দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব : তথ্যমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ June ২০২৬ ২৩:৫৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ June ২০২৬ ২৩:৫৬

অধিকার পত্র ডটকম ফরম্যাটে সংবাদ:

ঢাকা, ৫ জুন ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলার গ্যাস দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব : তথ্যমন্ত্রী

জ্বালানি নিরাপত্তাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের আহ্বান

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। জ্বালানি সম্পদের প্রাপ্যতা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে ‘বরিশাল জেলা সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেকোনো বড় বিনিয়োগের প্রথম শর্ত হলো জ্বালানি অবকাঠামো ও নিরাপত্তা। দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সম্পদ বিদ্যমান থাকায় এ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দক্ষিণ বাংলায় গ্যাস সম্পদের উপস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিষয়গুলো শুধু রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা হওয়া উচিত নয়। বরং সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে এসব দাবি ও সম্ভাবনা নীতিনির্ধারকদের সামনে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত উন্নত সড়ক থাকলেও তা কুয়াকাটা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়নি। দ্রুত এ সড়ক সম্প্রসারণ করা জরুরি, অন্যথায় যানবাহনের বাড়তি চাপ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ওপর চাপ কমাতে পায়রা বন্দরকে দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। কার্যকর নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সৃষ্ট রেমিট্যান্স ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

সমিতির সভাপতি ড. এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য Selima Rahman এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা Syed Moazzem Hossain Alal।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এ কে এম আজিজুর রহমান খান, উপদেষ্টা এ কে এম মিজানুর রহমান, নোভো কার্গো সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণাঞ্চলে সমাজসেবা, শিক্ষা, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে গুণীজন সম্মাননা পদক (মরণোত্তরসহ) প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক সোহেল।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: