odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 21st September 2026, ২১st September ২০২৬
সাতকানিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পরদিন চমেক হাসপাতালে যুবলীগ নেতার মৃত্যু; পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ বলছে ‘স্বাভাবিক’, স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত খুন

গ্রেপ্তারের পরদিনই চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৪ June ২০২৬ ১৭:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৪ June ২০২৬ ১৭:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরদিনই, আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেঁমশা ইউনিয়নের বাবর হোসেনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও জায়গা-জমির বিরোধের জেরে ‘যুবলীগ ট্যাগ’ দিয়ে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বক্তব্য

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের সাতকানিয়া থানার একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাতে তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

আজ সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত কারা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা একে 'ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক' বা তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবারের অভিযোগ ও জমিজমা বিরোধ

নুরুল আলমের ভাই নূর মোহাম্মদ এবং বোন বকুল আক্তার এই মৃত্যুকে 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড' বলে দাবি করেছেন। নূর মোহাম্মদ জানান, কেরানীহাটের একটি জমি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সাথে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সাতকানিয়া ভূমি অফিসে ওই জমির শুনানিতে অংশ নিতে গেলে ডিবি পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে।

পরিবারের দাবি, নুরুল আলমের নামে আগে কোনো মামলা ছিল না। তিনি নিয়মিত নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। জায়গা-জমির বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিতেই তড়িঘড়ি করে তাঁকে গ্রেপ্তার ও আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। সুস্থ-সবল একজন মানুষের কারাগারে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন মৃত্যু স্বাভাবিক নয় দাবি করে তাঁরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চান।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডিবি পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পর আইনি প্রক্রিয়া মেনেই আদালতে পাঠানো হয়। থানায় অবস্থানকালীন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তাঁকে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি। আদালতই তাকে বিকেলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যুবলীগ নেতার এমন আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র