odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 2nd July 2026, ২nd July ২০২৬
গণতন্ত্র সুসংহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১ July ২০২৬ ১১:৪০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১ July ২০২৬ ১১:৪০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর

ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এখন সেই গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পালা।

আজ বুধবার (১ জুলাই) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

গণতন্ত্রের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব অনস্বীকার্য। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক কারিকুলাম

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনিয়ারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যালামনাইদের সম্পৃক্তকরণ ও গবেষণার সংস্কৃতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার এবং মেধার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) গবেষণার উন্নয়নে ও উদ্ভাবনী কাজে পৃষ্ঠপোষকতায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।

উদ্যোক্তা তৈরির আহ্বান

তরুণ প্রজন্মকে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি অন্তত একটি তৃতীয় ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিসমূহের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: