odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 2nd July 2026, ২nd July ২০২৬
কূটনীতির টেবিলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের লড়াই। যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণের চাপ ইরানের, সামরিক বিকল্প নিয়ে ভাবছে হোয়াইট হাউজ

দোহায় ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সত্ত্বেও সরাসরি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১ July ২০২৬ ১২:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১ July ২০২৬ ১২:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের মধ্যে অস্থিরতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে রাজি নয় তেহরান। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে আসা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস একে ‘উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। তবে ইরান ও স্বাগতিক দেশ কাতার উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে, কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না; বরং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে আলোচনা চলবে।

শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা

ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন আলোচনা সম্ভব নয়। এরপরেই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান দাবি করেছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে তারা।

তবে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না।

সামরিক নাকি কূটনৈতিক সমাধান?

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে সামরিক পদক্ষেপের কথাও ভেবেছিলেন। তিনি তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে নতুন হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আপাতত সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস।

এদিকে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ নিয়ে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিসহ বিভিন্ন পক্ষ সংশয় প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তটি পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। যদিও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে, তবুও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) সতর্ক করেছে যে, দুর্বল অর্থনীতিগুলো এখনো খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: