odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 12th July 2026, ১২th July ২০২৬
যদি মানুষ সহযোগিতাপ্রবণ হয়, তবে আমাদের বিদ্যালয় কেন তাকে প্রতিযোগিতার যন্ত্রে পরিণত করছে?

মানুষ কি জন্মগতভাবে স্বার্থপর, নাকি আমাদের শিক্ষাই তাকে স্বার্থপর বানায়?—একটি জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়া সভ্যতার সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের অনুসন্ধান

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ১১ July ২০২৬ ০৪:৩৯

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ১১ July ২০২৬ ০৪:৩৯

অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিকশিক্ষা বিতর্ক-০১

মানুষ কি সত্যিই জন্মগতভাবে স্বার্থপর, নাকি পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাব্যবস্থাই তাকে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতাকেন্দ্রিক ও আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে? এই বিস্তৃত বিশ্লেষণধর্মী ফিচারটি থমাস হবস, জ্যাঁ-জাক রুশো, কার্ল মার্কস, পিটার ক্রোপটকিন, মাইকেল তোমাসেলো, ফ্রান্স দে ওয়াল, জন ডিউই, পাওলো ফ্রেইরে, পিয়ের বুর্দিয়ু, অমর্ত্য সেন, মার্থা নুসবামসহ বহু চিন্তাবিদের আলোকে মানব প্রকৃতি, শিক্ষা, সমতা (Equality), ন্যায়সঙ্গত সুযোগ (Equity), অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education), প্রতিযোগিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাজারায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতাকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেছে। প্রবন্ধটি শুধু শিক্ষার সংকট নয়; বরং একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলে—আমরা কি আমাদের সন্তানদের "আমি" হতে শেখাচ্ছি, নাকি "আমরা" হতে শেখাচ্ছি? ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত—সেই প্রশ্নের গভীর, গবেষণাভিত্তিক ও চিন্তাপ্রসূত উত্তর খুঁজতে আগ্রহী প্রত্যেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং সচেতন নাগরিকের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বিশ্লেষণ।

একটি শিশুর জন্মের মুহূর্তটি কল্পনা করুন। সে পৃথিবীতে আসে কোনো সম্পত্তির দলিল হাতে নিয়ে নয়, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নয়, কোনো প্রতিযোগিতার র‍্যাঙ্কিং নিয়ে নয়। সে আসে কান্না নিয়ে, স্পর্শের প্রয়োজন নিয়ে, অন্য মানুষের কোলে আশ্রয় নেওয়ার সহজাত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তার বেঁচে থাকা প্রথম দিন থেকেই সম্পূর্ণ নির্ভর করে অন্য মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং যত্নের ওপর। তাহলে প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—মানুষ কি জন্মগতভাবে স্বার্থপর, নাকি জন্মগতভাবেই সামাজিক?

এই প্রশ্নটি কেবল দর্শনের নয়; এটি শিক্ষা, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সভ্যতার অন্যতম মৌলিক প্রশ্ন। কারণ মানুষকে আমরা যেমন ভাবি, তেমনই শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করি; তেমনই রাষ্ট্র গড়ি; তেমনই সমাজ কল্পনা করি।

মানব প্রকৃতির সবচেয়ে পুরোনো বিতর্ক

সতেরো শতকে থমাস হবস (Thomas Hobbes) বলেছিলেন, মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা হলো "সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ" (war of all against all)। মানুষের মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিযোগিতার প্রবণতা এতটাই প্রবল যে শক্তিশালী রাষ্ট্র না থাকলে সমাজ ভেঙে পড়বে।

এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে পরে গড়ে ওঠে আধুনিক রাষ্ট্রতত্ত্বের একটি বড় অংশ, বাজার অর্থনীতির যুক্তি এবং "Economic Man"-এর ধারণা। জেরেমি বেনথাম (Jeremy Bentham) উপযোগবাদে মানুষকে দেখলেন লাভ-ক্ষতির হিসাবকারী সত্তা হিসেবে। পরে হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer)-এর সামাজিক ডারউইনবাদ প্রতিযোগিতাকেই সমাজের অগ্রগতির প্রধান চালিকা শক্তি বলে ব্যাখ্যা করল। রিচার্ড ডকিন্স (Richard Dawkins) "Selfish Gene" ধারণায় দেখালেন, জিন নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থেই জীবকে পরিচালিত করে।

এই ধারার যুক্তি স্পষ্ট—মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ হবে মানুষের স্বার্থপরতাকে সীমাবদ্ধ রাখা এবং সেই স্বার্থপরতাকেই উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করা।

কিন্তু মানুষ কি সত্যিই এতটা স্বার্থপর?

এখানেই আসে অন্য একটি ঐতিহাসিক ধারা। জ্যাঁ-জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) যুক্তি দিলেন, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে নৈতিক সহানুভূতিশীল; সমাজের অসমতা, বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা, মানুষকে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বার্থপর করে তোলে।

রুশোর বিখ্যাত বক্তব্য—"প্রথম যে ব্যক্তি একটি জমি ঘিরে বলেছিল, 'এটি আমার', এবং অন্যরা তা বিশ্বাস করেছিল—সেখান থেকেই সভ্যতার বৈষম্যের সূচনা।"  অন্যদিকে পিওতর ক্রোপটকিন (Peter Kropotkin) তাঁর বিখ্যাত Mutual Aid গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, বিবর্তনের ইতিহাসে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং সহযোগিতাই বহু প্রজাতির টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি। প্রকৃতিতে মৌমাছি, পিঁপড়া, নেকড়ে, হাতি কিংবা মানুষের সামাজিক জীবন—সবখানেই সহযোগিতা বিবর্তনের শক্তিশালী উপাদান।

কার্ল মার্কস (Karl Marx) আরও একধাপ এগিয়ে বললেন, মানুষের প্রকৃতি কোনো স্থির জিনিস নয়; মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে তার সামাজিক উৎপাদন সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতার মাধ্যমে। মানুষ যেমন সমাজ তৈরি করে, সমাজও তেমন মানুষ তৈরি করে।

আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে?

মানুষের স্বভাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক, সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা প্রশ্ন করে আসছেন—মানুষ কি জন্মগতভাবেই স্বার্থপর, নাকি সে জন্মগতভাবে সহযোগিতাপ্রবণ? একসময় এই প্রশ্নের উত্তর মূলত দর্শন বা নৈতিক চিন্তার পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে স্নায়ুবিজ্ঞান (Neuroscience), বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান (Evolutionary Psychology), শিশুবিকাশ গবেষণা (Developmental Psychology) এবং আচরণবিজ্ঞান (Behavioral Science)-এর বিস্ময়কর অগ্রগতি এই বিতর্কে নতুন আলোকপাত করেছে। আধুনিক গবেষণাগুলো ক্রমেই ইঙ্গিত করছে যে মানুষ কেবল নিজের স্বার্থ নিয়েই জন্মায় না; বরং তার ভেতরে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সহযোগিতা করা এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করার একটি সহজাত সক্ষমতাও বিদ্যমান থাকে।

আরো পড়ুন: ভাঙা আয়নার দেশে বড় হওয়া: কুয়ো থেকে মহাসমুদ্র—বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অদেখা মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা│বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের...মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (Part-02) │ স্কুলের খাঁচা, কলেজের বিভ্রান্ত স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাকী মহাসমুদ্র—কেন হারিয়ে যাচ্ছে লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, আর কোথায় আমাদের অভিভাবকত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা?

একটি নবজাতকের আচরণের দিকেই তাকালেই এর প্রাথমিক ইঙ্গিত দেখা যায়। জন্মের পরপরই একটি শিশু মানুষের মুখের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকায়, পরিচিত কণ্ঠস্বর চিনতে শেখে, অন্য শিশুর কান্না শুনে নিজেও অস্থির হয়ে ওঠে, বড়দের মুখভঙ্গি অনুকরণ করার চেষ্টা করে এবং ধীরে ধীরে সামাজিক সম্পর্কের প্রথম ভাষা রপ্ত করতে শুরু করে। শিশুর এই আচরণগুলো তাকে কেউ আলাদা করে শেখায় না; এগুলো তার স্বাভাবিক বিকাশেরই অংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে খেলনা ভাগাভাগি করতে শেখে, অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখে, কাউকে পড়ে যেতে দেখলে হাত বাড়িয়ে তুলতে চায়। অর্থাৎ মানুষের সামাজিকতা ও সহমর্মিতার বীজ তার জন্মের অনেক আগেই যেন প্রকৃতি তার ভেতরে রোপণ করে দেয়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী মাইকেল তোমাসেলো (Michael Tomasello)-এর গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি দেখিয়েছেন, অল্পবয়সী শিশুরা বহু ক্ষেত্রেই কোনো পুরস্কার, প্রশংসা বা ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। কেউ যদি কোনো জিনিস ফেলে দেয়, শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেটি তুলে দিতে চায়; কেউ বিপদে পড়লে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার চেষ্টা করে। এই আচরণ ইঙ্গিত করে যে সহযোগিতা কেবল সামাজিক প্রশিক্ষণের ফল নয়; মানুষের বিকাশের প্রাথমিক স্তর থেকেই এর একটি স্বাভাবিক ভিত্তি রয়েছে।

একই ধরনের পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায় প্রখ্যাত প্রাইমেট গবেষক ফ্রান্স দে ওয়াল (Frans de Waal)-এর গবেষণায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিম্পাঞ্জি ও বনোবোদের আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে মানুষ ছাড়া অন্যান্য উচ্চ প্রাইমেটদের মধ্যেও ন্যায্যতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, খাদ্য ভাগাভাগি, আহত সঙ্গীকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং দলগত সহমর্মিতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। অর্থাৎ বিবর্তনের ধারায় সহযোগিতা কোনো ব্যতিক্রম নয়; বরং টিকে থাকার একটি মৌলিক কৌশল। এই গবেষণাগুলো আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সামনে দাঁড় করায়—মানুষকে কেবল প্রতিযোগিতামূলক প্রাণী হিসেবে ব্যাখ্যা করা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্পূর্ণ। মানুষ একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে, আবার সহযোগিতাও করতে পারে; নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, আবার প্রয়োজনে অন্যের জন্যও ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। তাই মূল প্রশ্নটি আর মানুষের প্রকৃতি নিয়ে নয়; বরং আমাদের পরিবার, সমাজ এবং বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে কোনটিকে লালন-পালন করছে—সেই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে শিক্ষা কী করে?

ঠিক এখানেই এসে আমাদের সামনে দাঁড়ায় সবচেয়ে অস্বস্তিকর, অথচ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি। যদি মানুষ জন্মগতভাবে সহযোগিতাপ্রবণ হয়, যদি একটি শিশু স্বভাবগতভাবেই অন্য শিশুর সঙ্গে খেলতে, ভাগাভাগি করতে, একসঙ্গে কিছু তৈরি করতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়, তাহলে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর আমরা তার সেই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তির সঙ্গে কী করি? আমরা কি তার সহযোগিতার ক্ষমতাকে আরও বিকশিত করি, নাকি অজান্তেই তাকে এমন এক প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতির ভেতরে ঠেলে দিই, যেখানে সাফল্যের একমাত্র সংজ্ঞা হয়ে দাঁড়ায় অন্যকে অতিক্রম করা? শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর শিশুটি যেন ধীরে ধীরে এক অদৃশ্য সামাজিক বার্তা পেতে শুরু করে—প্রথম হতে হবে, অন্যকে হারাতে হবে, বন্ধুর চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার চরিত্র, কৌতূহল কিংবা মানবিকতায় নয়; তার র‌্যাঙ্ক, জিপিএ বা পরীক্ষার ফলাফলে।

এই পরিবর্তনটি এতটাই ধীর, এতটাই নীরব যে আমরা অনেক সময় তা টেরই পাই না। যে শিশুটি বাড়িতে নিজের প্রিয় খেলনাটি ভাই-বোন কিংবা বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে আনন্দ পায়, সেই শিশুই বিদ্যালয়ে এসে শিখে যায়—খেলনা ভাগাভাগি করা যায়, কিন্তু নম্বর ভাগাভাগি করা যায় না; সাফল্য ভাগাভাগি করা যায় না; এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জ্ঞান ভাগাভাগি করাও যেন সন্দেহের বিষয়। যে শিশুটি খেলার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে একটি ঘুড়ি বানাতে পারে, একটি দুর্গ গড়তে পারে বা কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে দলগতভাবে আনন্দ অনুভব করে, পরীক্ষার হলে তাকে বলা হয়—“একা লেখো, কারও দিকে তাকিয়ো না, কারও সাহায্য নেবে না।” অবশ্যই পরীক্ষার সততা রক্ষা জরুরি, কিন্তু যখন পুরো শিক্ষাজীবনই ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার ভাষায় নির্মিত হয়, তখন সহযোগিতা ধীরে ধীরে একটি প্রান্তিক গুণে পরিণত হয়। বাস্তব জীবনে যে দক্ষতা মানুষকে পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র এবং রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে, সেই সহযোগিতাই শিক্ষাব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

আরও গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পরিবর্তনটি শুধু আচরণে নয়, চিন্তার জগতেও ঘটে। যে শিশুটি একসময় অবাক হয়ে প্রশ্ন করত—“আকাশ নীল কেন?”, “গাছ বড় হয় কীভাবে?”, “মানুষ একে অপরকে সাহায্য করে কেন?”—সে ধীরে ধীরে এমন এক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, যেখানে প্রশ্নের চেয়ে সম্ভাব্য উত্তর বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কৌতূহলের চেয়ে নম্বর বেশি মূল্যবান, আর শেখার আনন্দের চেয়ে পরীক্ষায় এগিয়ে থাকার উদ্বেগ বড় হয়ে দাঁড়ায়। জ্ঞানের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ ক্রমে ফলাফলের হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষা আর কেবল মানুষকে জ্ঞানী করে না; অনেক ক্ষেত্রেই তাকে এমন এক প্রতিযোগিতার যন্ত্রে রূপান্তরিত করে, যেখানে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়াই জীবনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে হয়। অথচ প্রশ্নটি থেকেই যায়—যদি আগামী দিনের সমাজ সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মিলিত প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠতে হয়, তবে আমাদের বিদ্যালয়গুলো কি সত্যিই সেই সমাজের জন্য মানুষ তৈরি করছে, নাকি অজান্তেই একে অপরকে হারানোর সংস্কৃতিই আরও গভীরভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে?

প্রতিযোগিতা কি সবসময় খারাপ?

এই আলোচনার পর অনেকের মনেই একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগতে পারে—তাহলে কি প্রতিযোগিতা সবসময় ক্ষতিকর? এর উত্তর নিঃসন্দেহে না। প্রতিযোগিতা মানবসভ্যতার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সুস্থ প্রতিযোগিতা মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে অনুপ্রাণিত করে, দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহ দেয়, নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের পথ খুলে দেয় এবং আত্মতুষ্টি ও স্থবিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য, ক্রীড়া কিংবা শিল্প—মানবসভ্যতার বহু অসাধারণ অর্জনের পেছনেই রয়েছে উৎকর্ষ অর্জনের এই ইতিবাচক আকাঙ্ক্ষা। তাই প্রতিযোগিতা নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং প্রশ্ন হলো, প্রতিযোগিতা কী উদ্দেশ্যে, কী পদ্ধতিতে এবং কোন মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন প্রতিযোগিতা সহযোগিতার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, কিংবা আরও ভয়াবহভাবে, সহযোগিতার শত্রুতে পরিণত হয়। যখন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে নির্মিত হয় যে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যকে অন্য আরেকজনের ব্যর্থতার ওপর দাঁড় করানো হয়, তখন শেখার পরিবেশ ধীরে ধীরে একটি অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রূপ নেয়। সহপাঠী তখন আর একসঙ্গে শেখার সঙ্গী থাকে না; সে হয়ে ওঠে প্রতিযোগী। জ্ঞান ভাগাভাগি করার পরিবর্তে শুরু হয় তথ্য গোপন করার প্রবণতা, সহযোগিতার পরিবর্তে বাড়তে থাকে একাকী সাফল্যের দৌড়। ফলে বিদ্যালয় অজান্তেই এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করে, যেখানে ‘আমরা’ শব্দটির জায়গা দখল করে নেয় ‘আমি’।

এই সংকট আরও গভীর হয় যখন পরীক্ষার ফল, জিপিএ বা র‌্যাঙ্ক ধীরে ধীরে মানুষের মানবিক মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ডে পরিণত হয়। তখন একজন শিশুকে আর তার সততা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা কিংবা সামাজিক দায়িত্ববোধ দিয়ে বিচার করা হয় না; বিচার করা হয় একটি ফলাফলপত্রের কয়েকটি সংখ্যা দিয়ে। যে শিক্ষার্থী সামান্য কম নম্বর পায়, সে নিজেকেই কম মূল্যবান ভাবতে শুরু করে; আর যে বেশি নম্বর পায়, সে অনেক সময় অজান্তেই বিশ্বাস করতে শেখে যে তার মানবিক মূল্যও অন্যদের চেয়ে বেশি। অথচ মানুষের মর্যাদা কোনো সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

সবচেয়ে বড় বিপদ ঘটে তখন, যখন শিক্ষা শেখার আনন্দ হারিয়ে ফেলে এবং ধীরে ধীরে সনদ উৎপাদনের একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়। তখন শ্রেণিকক্ষের মূল প্রশ্ন আর থাকে না—তুমি কী বুঝেছ?”; বরং হয়ে যায়তুমি কত নম্বর পেয়েছ?” কৌতূহলের জায়গা দখল করে নেয় কোচিং, অনুসন্ধানের জায়গা নেয় মুখস্থবিদ্যা, আর শিক্ষার গভীর মানবিক উদ্দেশ্য সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় একটি সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে। তাই প্রকৃত প্রশ্ন প্রতিযোগিতা থাকবে কি থাকবে না—সেটি নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে পারি, যেখানে উৎকর্ষের জন্য সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা কখনোই সহযোগিতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সম্মানকে গ্রাস করবে না? কারণ একটি সুস্থ সমাজে মানুষ কেবল একা জিতে বড় হয় না; মানুষ একসঙ্গে এগিয়েই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়।

সমতা (Equality) নাকি ন্যায়সঙ্গত সুযোগ (Equity)?

আধুনিক শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক আজ সমতা (Equality) এবং ন্যায়সঙ্গত সুযোগ (Equity)-এর মধ্যকার পার্থক্যকে ঘিরে। প্রথম দৃষ্টিতে দুটি ধারণা যেন একই রকম মনে হলেও, বাস্তবে তাদের দর্শন ও প্রয়োগ একেবারেই ভিন্ন। সমতা আমাদের শেখায়—সকল শিক্ষার্থীকে একই সুযোগ, একই বই, একই শ্রেণিকক্ষ, একই পরীক্ষা এবং একই নিয়মের আওতায় আনলেই ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু ন্যায়সঙ্গত সুযোগের দর্শন একটি আরও গভীর সত্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি বলে, সব শিশু একই জীবনবাস্তবতা নিয়ে জন্মায় না; তাই সবার জন্য একই ব্যবস্থা তৈরি করলেই প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না।

একটি শিশু হয়তো এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠছে, যেখানে বইয়ের তাক নেই, পড়ার জন্য নিরিবিলি কোনো ঘর নেই, নিয়মিত বিদ্যুৎ নেই, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার নেই কিংবা ডিজিটাল প্রযুক্তির কোনো নাগালই নেই। অন্য একটি শিশু হয়তো মাতৃভাষা ও বিদ্যালয়ের ভাষার পার্থক্যের কারণে প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে নিজেকে অপরিচিত মনে করে। আবার কেউ শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা সংবেদনগত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে জীবনযাপন করছে; কেউ সামাজিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য, জাতিগত পরিচয় কিংবা ভৌগোলিক পশ্চাৎপদতার কারণে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে। এই বৈচিত্র্যময় বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে যদি সবাইকে একই সূচনাবিন্দুতে দাঁড় করিয়ে একই প্রত্যাশা করা হয়, তবে তা কাগজে-কলমে সমতা হলেও বাস্তবে তা গভীর বৈষম্যকেই স্থায়ী করে।

এই কারণেই সমসাময়িক বিশ্বে শিক্ষাকে কেবল সমান সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যার প্রয়োজন বেশি, তার জন্য সহায়তাও হতে হবে বেশি—এই নীতিই আজকের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তি। এ কারণেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education), সার্বজনীন শিক্ষানকশা (Universal Design for Learning), পার্থক্যভিত্তিক শিক্ষণ (Differentiated Instruction) এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা (Social Justice Education) বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে। এসব দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের এক রকম বানানোর চেষ্টা করে না; বরং তাদের বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে প্রত্যেকের সক্ষমতা বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নির্মাণকে শিক্ষার মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা তখনই মানবিক হয়ে ওঠে, যখন সে কেবল সমান দরজা খুলে দেয় না; বরং নিশ্চিত করে যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সেই দরজা পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তব সক্ষমতাও অর্জন করতে পারে।

তাহলে আমাদের শিক্ষা কোন পথে?

প্রশ্নটি আজ শুধু শিক্ষাবিদদের নয়, বরং সমগ্র সমাজের সামনে এক গভীর আত্মসমালোচনার আহ্বান। আমরা আমাদের সন্তানদের কেমন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই? এমন একজন মানুষ, যার পরিচয় কেবল পরীক্ষার নম্বর, র‍্যাঙ্ক কিংবা সনদে সীমাবদ্ধ; নাকি এমন একজন নাগরিক, যে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে জানে, জটিল সমস্যার সৃজনশীল সমাধান খুঁজে পায় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আমাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনও শিক্ষার সাফল্য পরিমাপের প্রধান মানদণ্ড হয়ে আছে নম্বর, র‍্যাঙ্ক, ভর্তি পরীক্ষা, কোচিং সংস্কৃতি এবং একে অপরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই এমন এক পরিবেশে বেড়ে ওঠে, যেখানে সহপাঠীকে অনেক সময় সহযাত্রী নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শেখানো হয়। ফলে শেখার আনন্দ ধীরে ধীরে স্থান ছেড়ে দেয় উদ্বেগকে, কৌতূহল চাপা পড়ে পরীক্ষার চাপে, আর জ্ঞানের অনুসন্ধান সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় কেবল ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে। শিক্ষা তখন মানুষ গড়ার পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাছাই ব্যবস্থায় পরিণত হয়।

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা আমাদের সামনে ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বহু প্রচলিত কাজের ধরন পাল্টে দিচ্ছে, আর জটিল বৈশ্বিক সংকট—যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, বৈষম্য কিংবা সামাজিক সংঘাত—কোনোটিই এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই পৃথিবী এমন মানুষ খুঁজছে, যারা দলবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে, ভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে আস্থা ও সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, সহমর্মিতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারে, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে পারে এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সৃজনশীলভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। সহযোগিতা, সমস্যা সমাধান, মানবিক সংবেদনশীলতা, সৃজনশীলতা এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করার সক্ষমতাই আজ বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা।

এখানেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ভবিষ্যতের পৃথিবীর একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে। কর্মক্ষেত্র যে ধরনের মানুষ প্রত্যাশা করছে, বিদ্যালয় এখনও বহু ক্ষেত্রেই সেই মানুষ তৈরির পরিবর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থী প্রস্তুত করছে। যদি শিক্ষা সত্যিই আগামী দিনের সমাজ নির্মাণের ভিত্তি হয়, তবে তার লক্ষ্য কেবল মেধাবীদের আলাদা করা নয়; বরং এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা একসঙ্গে শেখে, একসঙ্গে চিন্তা করে এবং একসঙ্গে মানবিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাহস অর্জন করে।

সমাপনী প্রতিফলন

সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—আমরা কেমন মানুষ চাই? যদি আমাদের লক্ষ্য হয় এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রত্যেকে অন্যকে হারিয়ে সামনে যাবে, তবে প্রতিযোগিতাকেন্দ্রিক শিক্ষা যথেষ্ট।

কিন্তু যদি আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে জ্ঞান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের সিঁড়ি নয়, বরং সামাজিক অগ্রগতির শক্তি; যেখানে বিদ্যালয় কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করবে; যেখানে শ্রেণিকক্ষ হবে সহযোগিতা, সংলাপ, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বোধের অনুশীলনের ক্ষেত্র—তবে আমাদের শিক্ষাকে নতুন করে ভাবতেই হবে।

মানুষ জন্মের সময় হাতে কোনো র‌্যাঙ্কিং নিয়ে আসে না। সে নিয়ে আসে সম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা, শেখার কৌতূহল এবং অন্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক প্রবণতা। শিক্ষা যদি সেই সহজাত মানবিক সম্ভাবনাকে লালন করে, তবে সভ্যতা আরও ন্যায়ভিত্তিক হবে। আর যদি শিক্ষা কেবল তুলনা, প্রতিযোগিতা ও মর্যাদার সিঁড়ি নির্মাণে ব্যস্ত থাকে, তবে হয়তো আমরা অনেক ডিগ্রিধারী মানুষ পাব, কিন্তু খুব কম মানুষ পাব যারা একসঙ্গে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়তে পারে।

প্রশ্নটি তাই এখনও খোলা রয়ে গেছে—আমরা কি শিক্ষা দিয়ে মানুষকে আরও বেশি "আমি" শিখাচ্ছি, নাকি "আমরা" হতে শেখাচ্ছি?

অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#শিক্ষা #বাংলাদেশের_শিক্ষা #মানুষ_কি_জন্মগতভাবে_স্বার্থপর #শিক্ষা_সংস্কার #InclusiveEducation #Equity #Equality #SocialJustice #PauloFreire #JohnDewey #MichaelTomasello #PierreBourdieu #CriticalPedagogy #EducationPolicy #HumanNature #CompetitionVsCooperation #SDG4 #EducationForAll #FutureOfEducation #বাংলাদেশ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: