অধিকার পত্র ডটকম ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বুধবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা শুধু প্রচলিত গণমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত অবমাননাকর বা ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ায়—এমন বক্তব্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে গণমাধ্যমকে সরকার স্মরণ করিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়েও শেখ হাসিনার বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকানো যাবে না। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, দলের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হবে।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দিল্লিতে যে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, সেটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা কী?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারও গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায় এবং জানায়, আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটরের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রযোজ্য।
কী জানা গেছে দিল্লির অনুষ্ঠান সম্পর্কে?
আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে একটি সাংবাদিক সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, এ আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে প্রদত্ত কোনো বক্তব্যেরও তারা সমর্থন করে না।
সংক্ষেপে
- ট্রাইব্যুনালের মতে, শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
- চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, এই নির্দেশনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
- সরকার গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
- আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রচারের পরিকল্পনা করেছে।
- ভারত সরকার বলেছে, দিল্লির অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: