ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া না হলে দেশে গণতন্ত্র টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট: সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না থাকলে গণতন্ত্র বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা হলে সরকার নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
রাজপথের কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘লং মার্চ’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটিকে সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
রিজভী বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে যা বললেন রিজভী
দেশের চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট তৈরি করেনি। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।
তিনি দাবি করেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার নিষ্ক্রিয় নেই। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ নিকটবর্তী দেশগুলো থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং মেরামতে কিছুটা সময় লাগছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যাও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।
বিদ্যুৎ খাত নিয়েও সমালোচনা
বিদ্যুৎ খাতের গত ১৭ বছরের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তার অভিযোগ, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই কেন্দ্রগুলোকে ভাড়া দিতে হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী জনগণকেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: