odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 7th October 2026, ৭th October ২০২৬
: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে আনোজান শিবারাসাকে প্রথমে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হলেও পরে আপিল আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ October ২০২৬ ১৯:৩৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ October ২০২৬ ১৯:৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

সৌদি-আরব প্রতিনিধি অধিকারপত্র ডটকম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবককে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনোজানের আর কোনো যোগাযোগ নেই। তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী।

আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করছে শ্রীলঙ্কা সরকারও।

যেভাবে শুরু হয় ঘটনা

ঘটনার সূত্রপাত গত জুনের শেষ দিকে। শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই সময় এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর জেরে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি সেই মন্তব্য মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

তবে এর আগেই তার করা মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি তার নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড

গ্রেপ্তারের পর আনোজানের ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয় এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানান, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে সাজা কমানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় নতুন মোড় আসে। সৌদি প্রসিকিউশন শরিয়াহ আইনের অধীনে মামলাটি বিবেচনার আবেদন করলে আপিল আদালত তা গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করা হয়।

সাজা মওকুফে শ্রীলঙ্কার উদ্যোগ

আনোজানের মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবারের সদস্যরা দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।

মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সৌদি আরবের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শ্রীলঙ্কা থেকে চার সদস্যের একটি আইনি প্রতিনিধিদল দেশটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধিদলের সদস্য প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপ্পেরুমা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দুটি আইন প্রতিষ্ঠান আনোজানের মামলাটি পরিচালনা করছে।

পরিবারের উদ্বেগ

এদিকে গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আনোজানের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি। বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকে জানিয়ে তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে পরিবার।

তবে এখন পর্যন্ত তার অবস্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।