odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 25th June 2026, ২৫th June ২০২৬
রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ ও আমদানি চাপ কমায় ৪৪ মাস পর স্বস্তির মাইলফলক; ২৪ জুন দিনশেষে গ্রস রিজার্ভ ৩৬ হাজার ১০৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সাড়ে ৪ বছর পর রিজার্ভে স্বস্তি: ৩৬ বিলিয়ন ডলার পার, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৫ বিলিয়ন

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৫ June ২০২৬ ০০:৫০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৫ June ২০২৬ ০০:৫০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর

টানা ৪৪ মাস পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসায় রিজার্ভে এই বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রস ও বিপিএম-৬ রিজার্ভের বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন দিন শেষে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৬.১০ বিলিয়ন ডলার)। এর আগের দিন ২৩ জুন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার এবং ২২ জুন ছিল ৩৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি 'বিপিএম-৬' অনুযায়ী বুধবার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৫২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩১.৫৫ বিলিয়ন ডলার)। যা আগের দিন ২৩ জুন ছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার।

কী এই বিপিএম-৬ পদ্ধতি?

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মোট বা গ্রস রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। আইএমএফের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে এই নিয়মে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পতন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের অক্টোবরে দেশের রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ছিল। এরপর অর্থপাচার বৃদ্ধি ও নানাবিধ অর্থনৈতিক সংকটে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সেপ্টেম্বর মাসেও এই পতনের ধারা বজায় থাকলেও অক্টোবর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। এরপর গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ যুক্ত হওয়ার পর তা ৩১ বিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করে। উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়েছিল।

রিজার্ভ বাড়ার মূল কারণ রেমিট্যান্স

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো ডলারের রেকর্ড প্রবাহই রিজার্ভকে এই স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৩৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫২৮ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাবের কারণে বাজারে ডলারের দামও (১২০ টাকার আশেপাশে) বর্তমানে বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: