অধিকারপত্র গবেষণাধর্মী বিশেষ ফিচার | শিশু বিকাশ, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য
শিশুর কথা বলতে দেরি হলে অনেক পরিবার উদ্বেগ, তুলনা ও বিভ্রান্তিকর পরামর্শের মধ্যে পড়ে। অথচ ভাষা বিকাশে সহায়তার শুরু হতে পারে শিশুর আগ্রহ অনুসরণ, তার কথায় সাড়া দেওয়া, বক্তব্য সম্প্রসারণ, গল্প, ছড়া ও দৈনন্দিন খেলার মধ্য দিয়ে। এই গবেষণাভিত্তিক বাংলা ফিচারে ভাষা, বাচন ও যোগাযোগের পার্থক্য, ঘরোয়া ভাষা-সহায়তার ব্যবহারিক কৌশল, শ্রবণ-মনোযোগ ও শ্রবণযন্ত্র যাচাইয়ের সীমা, ইশারা ভাষা ও বিকল্প যোগাযোগের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের জন্য পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তাব্যবস্থার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বি.দ্র.
লেখার পারিবারিক দৃশ্যগুলো বিষয় বোঝানোর জন্য নির্মিত কল্পদৃশ্য; এগুলো কোনো নির্দিষ্ট শিশুর চিকিৎসা বা ফলাফলের বিবরণ নয়।
একটি শব্দের অপেক্ষায় একটি পরিবার
বিকেলের আলো ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। সেখানে বসে আড়াই বছরের একটি শিশু খেলনা গাড়ির চাকা ঘোরাচ্ছে। পাশে বসে মা বলছেন, “মা বলো। একবার মা বলো।” শিশুটি চাকার দিকে তাকিয়ে আছে। মা আবার বললেন, এবার একটু জোরে। কিছুক্ষণ পর শিশু গাড়িটি সরিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।
মায়ের মনে প্রশ্ন জমে ওঠে। সে কি শুনতে পাচ্ছে না? বুঝতে পারছে না? নাকি বলতে চাইছে না? আত্মীয়দের কেউ বলেন, “ছেলেরা একটু দেরিতে কথা বলে।” কেউ বলেন, “আরও বেশি করে শব্দ বলান।” আর কেউ এমন একটি চিকিৎসার সন্ধান দেন, যেখানে নাকি অল্প দিনেই কথা ফুটে যায়।
প্রতিটি পরামর্শ মায়ের উদ্বেগে নতুন একটি ঢেউ তোলে। কিন্তু ঢেউ যত বাড়ে, তীর তত স্পষ্ট হয় না।
এবার অন্য একটি দৃশ্য কল্পনা করা যাক। একই বয়সের একটি শিশু গাড়ির দিকে হাত বাড়াল। বাবা বললেন, “গাড়ি। তোমার গাড়ি।” শিশু গাড়িটি ঠেলে দিলে বাবা বললেন, “গাড়ি যাচ্ছে!” কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করলেন। শিশুটি বাবার হাত ধরে আবার গাড়ির দিকে এগিয়ে দিল। বাবা তার ইচ্ছা বুঝে বললেন, “আবার চালাই।”
এখানে শিশু হয়তো একটি শব্দও বলেনি। তবু যোগাযোগ হয়েছে। তার আগ্রহ বোঝা হয়েছে, একটি ক্রিয়ার সঙ্গে ভাষা যুক্ত হয়েছে এবং সে বুঝেছে—আমার প্রকাশের চেষ্টা অন্য মানুষের কাছে পৌঁছায়।
ভাষা শেখার দরজা অনেক সময় এভাবেই খোলে। দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়ে নয়; ভেতরের মানুষের সাড়া পাওয়ার মধ্য দিয়ে।
ভাষা, বাচন ও যোগাযোগ: একই ঘরের তিনটি আলাদা দরজা
আমরা প্রায়ই শিশুর কথা বলা, ভাষা শেখা এবং যোগাযোগ করাকে একই অর্থে ব্যবহার করি। কিন্তু বিষয়গুলো সম্পর্কিত হলেও অভিন্ন নয়।
বাচন হলো মুখে ধ্বনি ও শব্দ উৎপাদনের প্রক্রিয়া। ভাষা হলো অর্থ বোঝা ও প্রকাশ করার নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা। আর যোগাযোগ হলো অন্যের সঙ্গে প্রয়োজন, অনুভূতি, তথ্য বা অভিজ্ঞতা বিনিময়। ভাষা মুখে বলা যায়, লেখা যায়, ইশারা ভাষায় প্রকাশ করা যায়। যোগাযোগের জন্য ছবি, প্রতীক কিংবা সহায়ক যন্ত্রও ব্যবহার করা যায়।
একটি শিশু স্পষ্ট উচ্চারণ করতে পারে, কিন্তু কথার অর্থ বুঝতে বা নিজের ভাব গুছিয়ে বলতে অসুবিধা হতে পারে। আরেকটি শিশু অনেক কিছু বোঝে, কিন্তু ধ্বনি উৎপাদনে সমস্যার কারণে তার কথা অস্পষ্ট হয়। কেউ মুখে খুব কম শব্দ বলেও ইশারা বা ছবির মাধ্যমে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারস—এনআইডিসিডি—বাচন ও ভাষাগত অসুবিধার এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করেছে।
তাই শুধু “কথা বলে না” বললে শিশুর প্রয়োজন পুরোপুরি বোঝা যায় না। বাড়ির অনুশীলন শুরুর আগেই আমাদের প্রশ্নটি বড় করতে হবে: শিশুটি কী বোঝে, কীভাবে প্রকাশ করে এবং কোথায় সহায়তা প্রয়োজন?
তাত্ত্বিক বোঝাপড়া: সম্পর্কের মধ্যে ভাষার জন্ম
শিশু ভাষা শেখে তার বিকাশগত সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্য মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। শব্দ শোনা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হলো, কার উদ্দেশে বলা হলো এবং তার পর কী ঘটল—এসবও অর্থ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
একটি শিশু “বল” শব্দ শুনল। তারপর গোল বস্তুটি হাতে পেল, সেটি গড়িয়ে গেল, অন্য কেউ ফিরিয়ে দিল। শব্দটি তখন শুধু বাতাসে ভাসমান ধ্বনি থাকে না; একটি অভিজ্ঞতার ঠিকানা পায়।
সামাজিক মিথস্ক্রিয়াভিত্তিক দৃষ্টিতে অভিভাবক শিশুর শেখার সহযাত্রী। তিনি শিশুর বর্তমান প্রকাশভঙ্গি থেকে সামান্য এগিয়ে একটি ভাষাগত উদাহরণ দেন। শিশু এক ধাপে দাঁড়িয়ে থাকলে বড় মানুষ তার নাগালে পরের ধাপটি রাখেন। পুরো সিঁড়ি একবারে ওঠানোর চেষ্টা করেন না।
আমেরিকান স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ-হিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন—আশা বা ASHA—প্রারম্ভিক সহায়তার নির্দেশনায় শিশুর উদ্যোগে সাড়া দেওয়া, নিজের ও শিশুর কাজ বর্ণনা করা এবং শিশুর কথাকে সম্প্রসারণ করার মতো কৌশল অন্তর্ভুক্ত করেছে। এগুলোকে শিশুর দৈনন্দিন জীবন ও পরিবারের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মানে অভিভাবককে সারাক্ষণ শিক্ষক হয়ে থাকতে হবে না। বরং পরিচর্যা, খেলা ও কথোপকথনের পরিচিত মুহূর্তগুলোকে আরও সচেতনভাবে ব্যবহার করা যায়।
ঘর হবে ভাষার বাগান, পরীক্ষার হল নয়
একটি বাগানে সব গাছ একই দিনে ফুল দেয় না। কিন্তু সেই কারণে পানি, আলো কিংবা পরিচর্যার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। শিশুর বিকাশেও ব্যক্তিভেদ আছে; আবার উদ্বেগ থাকলে মূল্যায়নের প্রয়োজনও আছে।
এই দুই সত্যের মাঝখানে পরিবারের পথচলা।
ঘরোয়া ভাষা-সহায়তা শিশুর যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে পারে। কিন্তু তোতলামি, নির্দিষ্ট উচ্চারণগত সমস্যা, মোটর-বাচনজনিত অসুবিধা কিংবা শ্রবণক্ষতির জন্য একই অনুশীলন যথেষ্ট নয়। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত পরিকল্পনা লাগতে পারে।
অভিভাবকের ভূমিকা তাই চিকিৎসকের অনুকরণ করা নয়। তাঁর ভূমিকা শিশুকে বোঝা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা এবং পরিবর্তনের খবর জানানো। ঘর ও পেশাগত সেবার সম্পর্কটি দুটি তীরের মধ্যে সেতুর মতো—এক তীর মুছে দিলে যাতায়াত সম্পূর্ণ হয় না।
শিশুর কথায় একটি নতুন ধাপ যোগ করুন
শিশু বলল, “বাবা গাড়ি।” বাবা উত্তর দিলেন, “বাবা গাড়ি চালায়।” শিশু বলল, “লাল বল।” মা বললেন, “লাল বল গড়াচ্ছে।” —এই ছোট সম্প্রসারণে শিশুর প্রকাশকে অস্বীকার করা হয় না। বরং তার বক্তব্যের ওপর দাঁড়িয়ে একটু পূর্ণাঙ্গ ভাষার উদাহরণ দেওয়া হয়।
এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। শিশুর অসম্পূর্ণ বাক্যকে ব্যাকরণগতভাবে পূর্ণ করা হলো সম্প্রসারণ। তার বক্তব্যে নতুন তথ্য যোগ করা হলো আরও বিস্তৃত করে বলা। “পাখি” শুনে “একটা পাখি” বলা এবং “পাখি উড়ছে” বলা—দুটিই উপকারী ভাষাগত উদাহরণ হতে পারে, তবে কাজ দুটি পুরোপুরি এক নয়।
শিশুর ছোট কথার উত্তরে দীর্ঘ বক্তৃতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। “পানি” বললে পরিস্থিতি অনুযায়ী “পানি চাই” বা “পানি খাবে?” যথেষ্ট হতে পারে। উদ্দেশ্য শিশুকে প্রতিবার অনুকরণ করানো নয়; তার সামনে ব্যবহারযোগ্য ভাষা রাখা।
ASHA-এর ভাষাগত অসুবিধাবিষয়ক নির্দেশনায় সম্প্রসারণ, বক্তব্যের গঠন বদলে উদাহরণ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট ভাষাগত উপাদান অর্থপূর্ণভাবে বারবার ব্যবহারের আলোচনা রয়েছে।
আগ্রহের নদীতে ভাষার নৌকা ভাসান
মা বই খুলেছেন, শিশু বল নিয়ে খেলতে চাইছে। এই মুহূর্তে বই নিয়ে টানাটানি করলে ভাষার সুযোগটি বিরোধে হারিয়ে যেতে পারে। বলটির কাছেই যাওয়া যায়।
“বল গড়াচ্ছে।”
“আমাকে দাও।”
“এবার তোমার পালা।”
শিশুর আগ্রহ অনুসরণ করা মানে সব সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়। নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সীমা থাকবে। কিন্তু ভাষা শেখার জন্য তার মনোযোগকে একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
কেউ পুতুলকে খাওয়াতে ভালোবাসে, কেউ গাড়ি সাজায়, কেউ জানালার পাশে পাখি দেখে। প্রতিটি আগ্রহের মধ্যে বস্তু, কাজ, স্থান, মানুষ ও অনুভূতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে।
ভাষার নৌকাটি শিশুর আগ্রহের স্রোতে ভাসালে কথোপকথন সহজ হয়। স্রোতের বিপরীতে শুধু নির্দেশনার বৈঠা চালালে দুজনই ক্লান্ত হতে পারেন।
পুনরাবৃত্তি হবে অর্থের, চাপের নয়
শিশুকে একটি শব্দ শেখাতে চাইলে সেটি দিনের বিভিন্ন স্বাভাবিক ঘটনায় ব্যবহার করা যায়। ধরা যাক শব্দটি “খোলো”। খেলনার বাক্সের সামনে বলা হলো, “বাক্স খোলো।” বই হাতে নিয়ে বলা হলো, “বই খুলি।” দরজার কাছে গিয়ে বলা হলো, “দরজা খোলো।”
শব্দটি তখন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। একই শব্দ বহুবার শোনা যায়, কিন্তু প্রতিবার বলার পরীক্ষা দিতে হয় না।
দৈনন্দিন জীবনের “দাও”, “নাও”, “আরও”, “শেষ”, “ভেতরে” কিংবা “বাইরে”—এমন শব্দ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। কোন শব্দ উপযোগী হবে, তা শিশুর প্রয়োজন ও বিদ্যমান দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে।
চাবি যেমন নির্দিষ্ট তালায় কাজে লাগে, শব্দও তেমনি প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হলে ব্যবহারযোগ্য হয়। শুধু শব্দের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মুখস্থ করানো সেই ব্যবহার নিশ্চিত করে না।
রান্নাঘর, পোশাক ও খেলায় কথোপকথনের সুযোগ
ভাষা শেখার জন্য সব সময় আলাদা টেবিল, দামি খেলনা কিংবা দীর্ঘ সময়ের আয়োজন প্রয়োজন হয় না। মা ফল ধুতে ধুতে বলতে পারেন, “আপেল ধুচ্ছি।” বাবা পোশাক পরানোর সময় বলতে পারেন, “জামা পরি। এবার হাত।”
নিজের কাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া এবং শিশুর কাজ নিয়ে কথা বলা—দুটিই দৈনন্দিন যোগাযোগকে সমৃদ্ধ করতে পারে। শিশু ব্লক রাখলে বলা যায়, “ওপরে রাখলে।” টাওয়ার ভেঙে গেলে বলা যায়, “পড়ে গেল!”
তবে অবিরাম কথা বলা প্রয়োজন নেই। কথোপকথনে বিরতি থাকতে হবে, যাতে শিশু নিজের মতো সাড়া দিতে পারে। ভাষার পরিবেশ তৈরি করা আর শিশুকে শব্দের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে রাখা এক বিষয় নয়।
শিশুর আগ্রহ, ক্লান্তি ও সংবেদনগত স্বাচ্ছন্দ্য লক্ষ্য করতে হবে। কেউ সরাসরি মুখোমুখি বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে পাশাপাশি খেলেও যোগাযোগ হতে পারে।
অপেক্ষা করুন, কিন্তু প্রয়োজন আটকে রাখবেন না
কখনো বড়রা শিশুর প্রয়োজন এত দ্রুত অনুমান করেন যে তার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। খেলনা গাড়ি হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করা যায়। শিশু হয়তো হাত বাড়াবে, ছবি দেখাবে, শব্দ বলবে কিংবা মাথা নাড়বে।
সেই প্রকাশ গ্রহণ করে গাড়িটি দেওয়া যায়। সঙ্গে বলা যায়, “গাড়ি চাই। এই নাও।”
কিন্তু এই কৌশলের নামে পানি, খাবার, বিশ্রাম বা প্রয়োজনীয় সাহায্য আটকে রাখা যাবে না। “আগে বলো, তারপর দেব”—এমন শর্ত শিশুর যোগাযোগের অধিকারকে সংকুচিত করতে পারে।
অপেক্ষা হলো একটি খোলা জায়গা তৈরি করা। সেটি যেন বাধার দেয়াল না হয়ে যায়। শিশুর মুখে শব্দ না এলেও তার ইশারা, প্রতীক বা অন্য প্রকাশের মূল্য আছে।
ছবির বইকে কথোপকথনের উঠান করুন
একটি ছবিতে বৃষ্টির মধ্যে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। বড় মানুষ বললেন, “বৃষ্টি পড়ছে।” শিশু ছাতার দিকে আঙুল দেখাল। তিনি বললেন, “ছাতা। ছাতা ধরেছে।”
শিশুর দক্ষতা অনুযায়ী প্রশ্নও করা যায়। তবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন ছুড়ে দিলে বইপড়া আনন্দের বদলে পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। কখনো মন্তব্য, কখনো অপেক্ষা, কখনো শিশুর দেখানো ছবির বিষয়ে কথা—এই ভারসাম্য প্রয়োজন।
বইয়ের গল্প একবারে শেষ করতেই হবে না। শিশু একই পাতায় বারবার ফিরতে চাইলে সেখানেই নতুন কথোপকথন হতে পারে।
বই না থাকলে পারিবারিক ছবি, পুরোনো ক্যালেন্ডারের ছবি কিংবা বাইরে দেখা গাছ, নৌকা ও প্রাণী নিয়ে গল্প করা যায়। বাংলাদেশের একটি উঠানও গল্পের বই হতে পারে—যদি সেখানে শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় থাকে।
ছড়া ও ধ্বনির খেলা: আনন্দের সঙ্গে পার্থক্য বোঝা
বাংলার ছড়া ও শিশুতোষ গান পরিবারে ভাষার আনন্দ নিয়ে আসে। পরিচিত ছড়ায় কিছুক্ষণ থেমে শিশুকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। সে শব্দ বলবে, হাত নড়াবে বা অন্যভাবে সাড়া দেবে—সবই অংশগ্রহণ।
একটু বড় শিশুর সঙ্গে শব্দের শুরু, ছন্দ বা মিল নিয়ে খেলা করা যায়। “মা” ও “মাছ” শব্দের শুরুতে একই ধ্বনি আছে—এমন বিষয় খেলাচ্ছলে লক্ষ্য করা যেতে পারে।
তবে শ্রবণ-মনোযোগ ও ধ্বনিগত সচেতনতা আলাদা দক্ষতা। একটি হলো শ্রবণসংকেতে মনোযোগ দেওয়া; অন্যটি ভাষার ধ্বনিগত গঠন নিয়ে সচেতন হওয়া। কোনো শিশু ছড়া মুখস্থ বলছে মানেই তার ভাষা বোঝা ও দৈনন্দিন যোগাযোগের সব দিক সমানভাবে বিকশিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
ছড়া হবে সঙ্গের আনন্দ। গানের প্রতিটি শব্দ সঠিকভাবে বলতেই হবে—এমন চাপ সেই আনন্দ কমিয়ে দিতে পারে।
শব্দ শোনা থেকে অর্থ বোঝা: শ্রবণ-সহায়তার পথ
কানে শব্দ পৌঁছানো এবং সেই শব্দের অর্থ বোঝা এক কাজ নয়। ঘণ্টা শুনে তার উপস্থিতি টের পাওয়া, ঘণ্টা ও কাগজের শব্দ আলাদা করা, ঘণ্টাটি চেনা এবং সেটি কেন বাজল বোঝা—এগুলো ভিন্ন দক্ষতা।
শ্রবণক্ষতি রয়েছে এমন শিশুর সহায়তায় শব্দের উপস্থিতি বোঝা, পার্থক্য করা, শনাক্ত করা ও অর্থ অনুধাবনের কার্যক্রম থাকতে পারে। ASHA-এর নির্দেশনায় এই ধারার পাশাপাশি শিশুর ভাষা ও যোগাযোগের প্রয়োজন বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
শ্রবণ প্রশিক্ষণ শ্রবণক্ষতি নিরাময় করে না। আবার শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করলেই সব শব্দ সমান স্পষ্টভাবে পাওয়া যাবে—এমনও নয়। যন্ত্রের উপযুক্ততা, কার্যকারিতা, পরিবেশ এবং শিশুর প্রয়োজন একসঙ্গে দেখতে হবে।
রেডিওর সংকেত দুর্বল হলে শুধু শ্রোতাকে মনোযোগী হতে বললে সমস্যার সমাধান হয় না। আগে সংকেতটি যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়।
পরিচিত শব্দের খেলা, রোগনির্ণয়ের পরীক্ষা নয়
ঘড়ির টিকটিক, কাগজের মচমচ কিংবা দরজায় আলতো টোকা নিয়ে খেলা করা যায়। শিশু শব্দের উৎস দেখাতে পারে। পরিচিত দুটি শব্দ শোনার পর কোনটি হলো, সেটি শনাক্ত করার সুযোগও দেওয়া যায়।
কিন্তু কোনো শব্দে সাড়া না দিলেই শ্রবণক্ষতি আছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আবার একটি শব্দে সাড়া দিলেই সব ধরনের শ্রবণক্ষমতা স্বাভাবিক, সেটিও বলা যাবে না।
শব্দ হতে হবে শিশুর জন্য আরামদায়ক। কানের কাছে চিৎকার, হঠাৎ জোরে আওয়াজ কিংবা ভয় দেখিয়ে প্রতিক্রিয়া যাচাই করা উচিত নয়।
শ্রবণক্ষতি বা শ্রবণসহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রমের শব্দ, দূরত্ব ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক করা প্রয়োজন।
নির্দেশনা অনুসরণে অসুবিধা মানেই শুনতে না পাওয়া নয়
খেলার মধ্যে বলা হলো, “বলটা দাও।” পরে শিশুর দক্ষতা অনুযায়ী বলা যায়, “বলটা বাক্সে রাখো।”
শিশু কাজটি না করলে বড়রা অনেক সময় ধরে নেন, সে শুনছে না বা কথা মানছে না। অথচ নির্দেশনার ভাষা বোঝা, মনোযোগ, স্মৃতি, আগ্রহ কিংবা কাজের জটিলতা—বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
একবারে সহজ নির্দেশনা দেওয়া, প্রয়োজন হলে দেখানো এবং শিশুকে সময় দেওয়া সহায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন বস্তু ও কাজের সঙ্গে শব্দের সম্পর্ক তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দেশনা অনুসরণকে আনুগত্যের পরীক্ষা বানানো উচিত নয়। শিশুর “না” বলা, সাহায্য চাওয়া কিংবা অন্য কিছু পছন্দ করাও যোগাযোগের অংশ।
ছয়টি ধ্বনি ও শ্রবণযন্ত্রের দৈনন্দিন যাচাই
শ্রবণযন্ত্র বা ককলিয়ার ইমপ্লান্ট ব্যবহারকারী কিছু শিশুর পরিকল্পনায় Ling Six Sound Check ব্যবহার করা হয়। সাধারণত /m/, /ɑ/, /u/, /i/, /ʃ/ ও /s/—এই ছয়টি বাচনধ্বনির মাধ্যমে বাচনধ্বনিতে শ্রবণপ্রবেশের একটি ব্যবহারিক ধারণা নেওয়া হয়। ASHA-এর শিশুদের শ্রবণযন্ত্রবিষয়ক নির্দেশনায় Ling 6-Sound Test-এর উল্লেখ আছে।
তবে এটি পূর্ণাঙ্গ শ্রবণ পরীক্ষা নয়। কীভাবে ধ্বনি দিতে হবে, কত দূর থেকে, কোন পরিবেশে এবং শিশুর প্রতিক্রিয়া কীভাবে বুঝতে হবে—এসব অডিওলজিস্টের কাছ থেকে শেখা প্রয়োজন।
উদ্বেগজনক পরিবর্তন হলে বাড়িতে বারবার পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে পেশাগত পরামর্শ দরকার। এই যাচাইকে গাড়ির ড্যাশবোর্ডের সতর্কবাতির সঙ্গে তুলনা করা যায়: আলো জ্বললে সমস্যা খুঁজতে হয়; শুধু আলো দেখে সব যন্ত্রাংশের অবস্থা জানা যায় না।
আয়না ও মুখের ব্যায়াম: কোন দাবির কতটুকু ভিত্তি?
নির্দিষ্ট ধ্বনি শেখাতে বিশেষজ্ঞ কখনো আয়না ব্যবহার করতে পারেন। শিশু ঠোঁটের দৃশ্যমান অবস্থান দেখার সুযোগ পায়। কিন্তু সব উচ্চারণের সমস্যা আয়নায় দেখা যায় না, সব সমস্যার সমাধানও একইভাবে হয় না।
আর ফুঁ দেওয়া, জিহ্বা নাড়ানো কিংবা ঠোঁটের ব্যায়ামকে সাধারণভাবে “কথা ফোটানোর চিকিৎসা” বলা বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট সমর্থিত নয়। Cochrane-এর ২০১৫ সালের পর্যালোচনায়, এপ্রিল ২০১৪ পর্যন্ত পাওয়া ছোট ও সীমাবদ্ধ গবেষণার ভিত্তিতে বিকাশগত বাচনধ্বনির সমস্যায় এসব বাচনবহির্ভূত মুখের অনুশীলনের কার্যকারিতা সমর্থন করার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি সব সম্ভাব্য প্রয়োগ চূড়ান্তভাবে অকার্যকর প্রমাণ করার সমান নয়; তবে নিশ্চিত সুফলের দাবি করার ভিত্তিও দেয় না।
বুদ্বুদ তৈরি আনন্দের খেলা হতে পারে। খাওয়ানো বা গিলনসংক্রান্ত সমস্যার জন্য পৃথক বিশেষজ্ঞের অনুশীলনও থাকতে পারে। কিন্তু আনন্দের খেলা, গিলনের চিকিৎসা ও বাচনের চিকিৎসাকে এক করে দেখা যাবে না।
যোগাযোগের পথ বন্ধ করে কথা শেখানো যায় না
যে শিশু ছবি দেখিয়ে পানি চায়, সে যোগাযোগ করছে। যে শিশু ইশারা ভাষায় নিজের অনুভূতি জানায়, তার ভাষাগত প্রকাশ আছে। মুখে শব্দের অপেক্ষায় এই পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।
বিকল্প ও সহায়ক যোগাযোগ বা AAC শিশুর প্রয়োজন প্রকাশ, পছন্দ জানানো এবং অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। ASHA-এর প্রারম্ভিক সহায়তাবিষয়ক উপকরণে উল্লেখিত গবেষণার সারাংশ অনুযায়ী, AAC-এর প্রাথমিক ব্যবহার বাচনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে—এমন ধারণা সমর্থিত নয়।
বধির শিশুর ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা শুধু মুখে কথা আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষার ব্যবস্থা নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষার পথ। শিশুর উপযোগী ভাষায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।
যোগাযোগের সেতু যত উপযোগী হবে, শিশুর অংশগ্রহণের সুযোগ তত বাড়বে। সেতুর নির্মাণসামগ্রী মুখের শব্দ, ইশারা, ছবি কিংবা প্রযুক্তি—যাই হোক, মানুষটির কাছে পৌঁছানোই তার কাজ।
পনেরো মিনিটের একটি নমনীয় পারিবারিক আয়োজন
একটি পরিবার চাইলে ছোট একটি সময়কে সচেতন যোগাযোগের জন্য রাখতে পারে। শুরুতে প্রায় তিন মিনিট শিশুর পছন্দের কিছু নিয়ে খেলা ও কথোপকথন, পরের চার মিনিট খেলায় শব্দ ব্যবহার, এরপর তিন মিনিট উপযোগী শব্দের খেলা, তিন মিনিট ছবি বা গল্প এবং শেষে দুই মিনিট পরিচিত ছড়া বা আনন্দময় সমাপ্তি রাখা যেতে পারে।
এটি চিকিৎসাগত থেরাপির নির্ধারিত মাত্রা নয়। পনেরো মিনিট পূর্ণ করতেই হবে—এমন কোনো শর্তও নেই। শিশুর বয়স, আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সময় কমানো, ভাগ করা কিংবা কার্যক্রম বাদ দেওয়া যায়। শ্রবণক্ষতি থাকলে শব্দের কার্যক্রম বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে।
আলাদা সময় না পেলেও খাওয়া, পোশাক পরা ও খেলায় একই নীতি প্রয়োগ করা সম্ভব। ঘড়ি দেখার চেয়ে শিশুর সাড়া দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্রগতি শুধু শব্দসংখ্যার খাতায় থাকে না
পরিবার চাইলে সংক্ষিপ্তভাবে লিখে রাখতে পারে, শিশু আগে কীভাবে সাহায্য চাইত আর এখন কীভাবে চাইছে। নতুন ইশারা বা ছবি ব্যবহার করছে কি না, কথোপকথনে পালা নিচ্ছে কি না, পরিচিত মানুষের কাছে নিজের প্রয়োজন আরও স্পষ্ট করছে কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
সপ্তাহে একদিনের পর্যবেক্ষণ শিশুকে নম্বর দেওয়ার জন্য নয়। বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করার উপকরণ হিসেবে এটি কাজে আসতে পারে। একটি সপ্তাহে পরিবর্তন না দেখলেই সহায়তা ব্যর্থ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও যথাযথ নয়।
তবে আগে অর্জিত দক্ষতা হারানো, শ্রবণ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা থাকলে শুধু ঘরোয়া অনুশীলনের ফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। এনআইডিসিডি উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা, প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ মূল্যায়ন এবং শ্রবণ পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলে।
বাংলাদেশের বাস্তবতা: পরিবারকে অংশীদার করুন, একা দায়িত্ব দেবেন না
বাংলাদেশের একটি পরিবারের জন্য বিশেষায়িত সেবা নেওয়া মানে শুধু একটি সাক্ষাৎ নয়। কোথায় যেতে হবে, কার যোগ্যতা কী, যাতায়াত কীভাবে হবে এবং ব্যয় কতটা বহনযোগ্য—এসব প্রশ্নও থাকে। তার সঙ্গে যোগ হয় সহজ বাংলায় তথ্যের অভাব ও অসংখ্য অসংগত পরামর্শ।
অভিভাবক প্রশিক্ষণ এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয়। কিন্তু কয়েকটি কৌশল শিখিয়ে পরিবারকে পুরো দায়িত্ব দিয়ে দিলে সেবার ঘাটতি পূরণ হয় না। বিশেষ করে মায়ের ওপর সব দায় চাপানো অন্যায্য। বাবা, পরিবারের অন্য সদস্য, শিক্ষক ও সেবাদানকারীদেরও ভূমিকা রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে উপযোগী ছবি, গল্প ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা তৈরি করা দরকার। বাংলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য মাতৃভাষা এবং বাংলা ইশারা ভাষার প্রয়োজনও বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষাগত পটভূমি নির্বিশেষে অভিভাবক যেন বুঝতে পারেন—এমন ভাষা ও উপস্থাপনা প্রয়োজন।
কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্বেগ শনাক্ত করা, যথাযথ সেবায় পাঠানো এবং পরিবারকে অনুসরণমূলক সহায়তা দেওয়ার সংযোগ গড়ে তোলা যেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ও বিশেষায়িত পেশাজীবীদের মধ্যে সহযোগিতা ছাড়া পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবস্থা পূর্ণতা পাবে না।
উপসংহার: প্রথমে শিশুর কথা শুনুন, তারপর তাকে কথা বলতে সাহায্য করুন
শিশুর ভাষা বিকাশে ঘরোয়া সহায়তার শক্তি তার সহজতায়। একটি বল, একটি ছবি, একটি পরিচিত গান কিংবা দৈনন্দিন কাজ কথোপকথনের সুযোগ হতে পারে। কিন্তু কার্যক্রমটির নামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ শিশুর সঙ্গে সম্পর্কের ধরন।
আমরা কি তার উদ্যোগে সাড়া দিচ্ছি? প্রকাশের সময় দিচ্ছি? তার উপযোগী ভাষা ও যোগাযোগের পথ রাখছি? অসুবিধা হলে সহায়তা নিচ্ছি? নাকি কেবল নিজের প্রত্যাশার শব্দটি তার মুখ থেকে বের করতে চাইছি?
অভিভাবকের ভালোবাসা মূল্যবান। সেই ভালোবাসার পাশে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য, পেশাগত সহায়তা এবং এমন একটি সমাজ, যেখানে শিশুর যোগাযোগের ভিন্নতা তার মর্যাদা কমিয়ে দেয় না।
শেষ প্রতিফলন: নীরবতার ভেতরেও একটি মানুষ কথা বলে
লেখার শুরুতে যে শিশুটি গাড়ির চাকা ঘোরাচ্ছিল, তার কাছে আবার ফিরে যাই। এবার মা পাশে বসে বলেন, “চাকা ঘোরে।” কিছুক্ষণ থামেন। শিশুটি তাঁর হাতে গাড়িটি রাখে।
সে “মা” বলেনি। তবু একটি সম্পর্কের দরজা খুলেছে। মা বুঝেছেন, তার এই এগিয়ে দেওয়া একটি অর্থ বহন করে। শিশু অভিজ্ঞতা পেয়েছে, তার প্রকাশের উত্তরে মানুষ সাড়া দেয়।
একটি নতুন শব্দ শুনলে আমরা আনন্দিত হই। কিন্তু তার আগেও শিশুর দিকে মনোযোগ দেওয়া, তার ইশারা বোঝা এবং তার প্রয়োজনের উত্তর দেওয়া সম্ভব।
শিশুর ভাষার বাগানে ফুল ফোটানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যেন আমরা তার বেড়ে ওঠার মাটিটুকু শক্ত করে না ফেলি। সেই মাটি হলো নিরাপত্তা, গ্রহণযোগ্যতা, প্রবেশগম্য ভাষা এবং মানুষের আন্তরিক সাড়া।
পরের পর্ব: ঘরেই শিশুর ভাষা ও বাচন বিকাশে সহায়তা: বাংলাদেশের অভিভাবকদের জন্য সহজ স্পিচ থেরাপি ও অডিটরি ট্রেনিংয়ের কার্যকর কৌশল
লেখক: অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু, উপদেষ্টা, অধিকারপত্র : odhikarpatranews@gmail.com
#শিশুরভাষাবিকাশ #অভিভাবকসচেতনতা #স্পিচথেরাপি #শ্রবণসহায়তা #ইশারাভাষা #বিকল্পযোগাযোগ #বিশেষশিক্ষা #শিশুরযোগাযোগ #পরিবারকেন্দ্রিকসহায়তা #অধিকারপত্র
