odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 26th May 2026, ২৬th May ২০২৬
প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে বাস্তবতার পরীক্ষায় নতুন সরকারের প্রথম অধ্যায়

সরকারের ১০০ দিন: সাফল্য যেমন আছে, তেমনি রয়ে গেছে বড় কিছু প্রশ্ন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ May ২০২৬ ২৩:৫৪

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ২১:৪৮

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬

অধিকার পত্র সম্পাদকীয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন দাবি করেছেন, মন্ত্রিসভার গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৬২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রেও নতুন সরকারের দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা এবং কিছু নীতিগত উদ্যোগের তথ্য উঠে এসেছে।

তবে একটি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন কেবল সংখ্যার হিসাব দিয়ে হয় না; জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন কতটা এসেছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নতুন সরকারের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে প্রশাসনিক গতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন, ধারাবাহিক বৈঠক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়তা সরকারের প্রতি একটি প্রাথমিক আস্থা তৈরি করেছে। শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ, হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ঘোষণা জনমনে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সরকার কিছু ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জনআলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর, তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মের কাছে সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে।

তবে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়।

সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য। সাধারণ মানুষ এখনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না। চাল, ডাল, তেল, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতেও এখনো দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের চাকরির অনিশ্চয়তা একটি বড় সামাজিক চাপ হয়ে আছে।

আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নেও সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রয়েছে। সরকার একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলছে, অন্যদিকে “অপপ্রচার রোধে আইনি সংস্কার”-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের আইন অনেক সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করে। তাই ভবিষ্যতের যেকোনো আইনি উদ্যোগ যেন সমালোচনার কণ্ঠ রোধের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘোষণা ও বাস্তবায়নের ব্যবধান। থার্ড টার্মিনাল চালু, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, ব্যাংকিং সংস্কার বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো বড় প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। ১০০ দিনে এসব উদ্যোগের সূচনা হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সফলতার মূল্যায়ন করার সময় এখনো আসেনি।

সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের প্রত্যাশা ধরে রাখা। কারণ নির্বাচনের পর মানুষ শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, জীবনের বাস্তব পরিবর্তনও দেখতে চায়। নিরাপদ কর্মসংস্থান, সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিচারহীনতার অবসান এবং নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

একইসঙ্গে বিরোধী মত ও সমালোচনাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করার রাজনৈতিক সংস্কৃতিও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কেবল নির্বাচনে নয়, ভিন্নমত সহ্য করার সক্ষমতায়ও নিহিত।

নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনি অনেক প্রশ্নও এখনো অনুত্তরিত রয়ে গেছে। তাই এই সময়কে চূড়ান্ত সাফল্য বা ব্যর্থতার মাপকাঠি না দেখে, বরং একটি সম্ভাবনাময় কিন্তু কঠিন পরীক্ষার সূচনা বলাই বেশি বাস্তবসম্মত।

মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

সম্পাদক ও প্রকাশক অধিকারপত্র ডটকম ও মাসিক আমাদের অধিকারপত্র 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: