odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 12th October 2026, ১২th October ২০২৬
শিশুবিয়ে, যৌন নিপীড়ন, হত্যা ও বিচারহীনতার ভয় কাটিয়ে কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বদলাতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস: বাংলাদেশে কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার বাস্তবতা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:২৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:২৩

 অধিকারপত্র ডটকম/সম্পাদকীয় ডেক্স :

একটি মেয়ে শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার জন্য স্বপ্ন দেখেন বাবা-মা। কেউ তাকে চিকিৎসক, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রকৌশলী কিংবা দেশের নেতৃত্বে দেখতে চান। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে কত কন্যাশিশুকে প্রতিদিন লড়তে হয় অবহেলা, বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে। কারও শৈশব হারিয়ে যায় সংসারের বোঝা টানতে গিয়ে, কারও পড়াশোনা থেমে যায় অল্প বয়সে বিয়ের কারণে, আবার কারও জীবনের সম্ভাবনাই নিভে যায় সহিংসতার নির্মম আঘাতে।

১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিনটি কেবল শুভেচ্ছা জানানোর কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিশ্রুতির বাণী প্রকাশের উপলক্ষ নয়। এটি বাংলাদেশের জন্য আত্মসমালোচনার দিন—আমরা কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় কতটা এগিয়েছি, আর কতটা পথ এখনো বাকি?

 অগ্রগতি আছে, কিন্তু অধিকার এখনো সবার নাগালে নয়

বাংলাদেশে কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অংশগ্রহণ ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি, বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কর্মসূচি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনি কাঠামো—এসব উদ্যোগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু নীতি ও আইনের অস্তিত্বই অধিকার বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন একটি মেয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে, নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নির্যাতনের শিকার হলে দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের *Multiple Indicator Cluster Survey (MICS)*-এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছিল। একই জরিপে ১৩ শতাংশের বিয়ে ১৫ বছর বয়সের আগেই হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শিশুবিয়ে কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও বিপুলসংখ্যক মেয়ের শৈশব এখনো অল্প বয়সে বিয়ের চাপে সংকুচিত হচ্ছে। 

এই পরিসংখ্যান কেবল বিয়ের বয়সের হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া, অল্প বয়সে মাতৃত্বের স্বাস্থ্যঝুঁকি, আর্থিক নির্ভরশীলতা এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি। যে বয়সে একটি মেয়ের বই হাতে নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই তাকে সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হলে তার ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ভয়: নিরাপত্তা কি শুধু সতর্ক থাকার দায়িত্ব?

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রায়ই মেয়েদের পোশাক, চলাফেরা, বাইরে যাওয়ার সময় কিংবা পরিবারের নজরদারির কথা সামনে আনা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি শিশু কেন নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসদৃশ প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গণপরিবহন কিংবা পরিচিত মানুষের কাছেও নিরাপদ বোধ করবে না?

যৌন নিপীড়নের দায় কখনো শিশুর নয়। অপরাধীর দায় অপরাধীরই। অথচ নির্যাতনের পর অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে ঘটনা গোপন করে, অনেক শিশুকে চুপ থাকতে বলা হয়, আবার কোথাও ভুক্তভোগীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এসব আচরণ অপরাধীকে আড়াল করে এবং শিশুর মানসিক ক্ষতকে আরও গভীর করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের ধর্ষণসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং সংবাদমাধ্যমভিত্তিক পর্যবেক্ষণে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা, সংগঠনের পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া মামলা এক ধরনের পরিসংখ্যান নয়। তাই কোনো একটি সংখ্যা দিয়ে দেশে সংঘটিত সব যৌন অপরাধের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যায় না; অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না। 

যৌন নিপীড়নের পর হত্যা, অপহরণ, ব্ল্যাকমেইল কিংবা অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপের মতো ঘটনা সমাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আনে। প্রতিটি ঘটনার বিচার হওয়া জরুরি, কিন্তু বিচার মানে শুধু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা নয়। তদন্তের মান, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, সাক্ষীর সুরক্ষা এবং আদালতে সময়মতো নিষ্পত্তি—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের বিচার দীর্ঘায়িত হলে মানুষের আস্থা কমে, আর বিচারহীনতার ধারণা অপরাধীদের সাহস জোগাতে পারে।

 কন্যাশিশুরা কেন অনিরাপদ?

কন্যাশিশুর নিরাপত্তাহীনতার পেছনে কোনো একক কারণ নেই। দারিদ্র্য, বৈষম্যমূলক সামাজিক ধারণা, দুর্বল তদারকি, অপরাধ গোপন করার প্রবণতা, অনলাইনে হয়রানি এবং কার্যকর সহায়তা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রথমত, সমাজের একটি অংশ এখনো মনে করে মেয়ের জীবনের প্রধান লক্ষ্য বিয়ে ও সংসার। এই ধারণা থেকে শিশুবিয়েকে কখনো অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান, কখনো সামাজিক সম্মান রক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হয়। অথচ বিয়ে কোনো শিশুর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।

দ্বিতীয়ত, যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। অপরাধীর সামাজিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার কারণে অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, নিরাপদ পরিবেশের দায়িত্ব অনেক সময় শুধু পরিবার বা শিশুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের যাতায়াতপথ, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৌচাগার, খেলার মাঠ এবং অনলাইন পরিসর নিরাপদ করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও।

চতুর্থত, অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হলেও কোথায় অভিযোগ করবে, কার কাছে সাহায্য চাইবে কিংবা তার কথা গোপন রাখা হবে কি না—তা জানে না। অভিযোগ জানানোর পর অপমান, ভয় দেখানো বা সামাজিক চাপের আশঙ্কা থাকলে শিশুর পক্ষে মুখ খোলা আরও কঠিন হয়ে যায়।

আইন আছে, বাস্তবায়নের ঘাটতি কোথায়?

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত হয়েছে। তবে আইনে নির্দিষ্ট শর্তে আদালতের নির্দেশ ও অভিভাবকের সম্মতিসংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ বিধানও রয়েছে, যা নিয়ে শিশু অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ রয়েছে। 

প্রশ্ন হলো, আইন থাকা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ ঘটছে কেন? অনেক ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও বয়স যাচাইয়ের দুর্বলতা, স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সামাজিক চাপ এবং অভিযোগ জানানোর অনীহা প্রতিরোধকে দুর্বল করে। শুধু বিয়ে বন্ধ করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; যে মেয়েটি বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে, তার পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

একইভাবে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যেন প্রভাবমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভুক্তভোগীকে বারবার অপমানজনক প্রশ্নের মুখে ফেলা, তার পরিচয় প্রকাশ করা কিংবা আপসের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী, সংবেদনশীল ও গোপনীয়তা-সম্মত পদ্ধতিতে বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া উচিত।

সমাধান কোথায়: প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে

কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে প্রথম প্রয়োজন—অপরাধ ঘটার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

১. দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যা ও বাল্যবিবাহের অভিযোগে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার এগিয়ে নিতে হবে। প্রভাবশালী অভিযুক্তের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে যেন প্রমাণ ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা না হয়, সে নিশ্চয়তাও জরুরি।

২. বিদ্যালয় ও যাতায়াতপথ নিরাপদ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর গোপন ব্যবস্থা, কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি, নিরাপদ শৌচাগার এবং যাতায়াতপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষক, পরিবহনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের শিশু সুরক্ষার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৩. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

জন্মনিবন্ধন ও বয়স যাচাই জোরদার করা, বিয়ের আয়োজন সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সংযোগ তৈরি করা দরকার। কোনো মেয়ে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে যেন পরিবার বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে না হয়, সেই সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. যৌন শিক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বয়সোপযোগী সচেতনতা বাড়াতে হবে।

শিশুকে নিজের শরীরের ব্যক্তিগত সীমা, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, ভয় দেখিয়ে গোপন রাখতে বাধ্য করা এবং বিপদে বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে শেখাতে হবে। একই সঙ্গে ছেলেশিশুদেরও সম্মতি, মর্যাদা, সমতা ও সহিংসতাবিরোধী আচরণ শেখাতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু মেয়েদের সতর্কতার ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না।

৫. অভিযোগকারীর পাশে থাকতে হবে।

নির্যাতনের শিকার শিশু ও তার পরিবারকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয় দিতে হবে। অভিযোগ জানানোর কারণে শিশুকে যেন স্কুল ছাড়তে না হয়, বাড়ি বদলাতে বাধ্য না করা হয় কিংবা সামাজিকভাবে অপমানিত হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

৬. অনলাইন নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি কিংবা প্রতারণার শিকার হলে শিশুকে দোষারোপ না করে দ্রুত সহায়তা দিতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

৭. বাজেট ও তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে কত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং কী ফল পাওয়া যাচ্ছে—তার নিয়মিত মূল্যায়ন প্রকাশ করা দরকার। বয়স, অঞ্চল, প্রতিবন্ধিতা ও আর্থসামাজিক অবস্থাভিত্তিক তথ্য থাকলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

কন্যাশিশুর অধিকার মানে ভবিষ্যতের অধিকার

কন্যাশিশুর অধিকারকে দয়া কিংবা অনুগ্রহ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, মতপ্রকাশ, মর্যাদা এবং সহিংসতামুক্ত জীবন—এসব তার মৌলিক অধিকার। একটি শিশুকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হলে শুধু একটি পরিবার নয়, রাষ্ট্রের সুরক্ষা-ব্যবস্থা এবং সমাজের নৈতিক ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফুল, স্লোগান ও প্রতিশ্রুতি অবশ্যই থাকতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে বড় প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। যে মেয়ে নির্ভয়ে স্কুলে যেতে পারে না, যে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েও কথা বলতে ভয় পায়, যে কিশোরীকে অল্প বয়সে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়—তার জীবনে পরিবর্তন না এলে দিবস পালনের সার্থকতা কোথায়?

বাংলাদেশের কন্যাশিশুরা করুণা চায় না; তারা চায় সমান অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ এবং ন্যায়বিচার। রাষ্ট্রকে আইন প্রয়োগ করতে হবে, পরিবারকে পাশে দাঁড়াতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ হতে হবে এবং সমাজকে অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকে প্রশ্ন করার অভ্যাস ছাড়তে হবে।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কোনো এক দিনের অঙ্গীকার নয়—এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব।

যে বাংলাদেশে একটি মেয়ে শিশুর পরিচয় তার লিঙ্গের কারণে ঝুঁকির কারণ হবে না, যেখানে তার স্বপ্নকে বাল্যবিবাহ বা সহিংসতা থামিয়ে দিতে পারবে না, সেই বাংলাদেশ গড়াই হোক আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রকৃত অঙ্গীকার।

বাংলাদেশের কন্যাশিশুরা করুণা চায় না; তারা চায় সমান অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ এবং ন্যায়বিচার। রাষ্ট্রকে আইন প্রয়োগ করতে হবে, পরিবারকে পাশে দাঁড়াতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ হতে হবে এবং সমাজকে অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকে প্রশ্ন করার অভ্যাস ছাড়তে হবে।

হ্যাশট্যাগ: #আন্তর্জাতিককন্যাশিশুদিবস #কন্যাশিশুরঅধিকার #শিশুসুরক্ষা #বাল্যবিবাহপ্রতিরোধ #নারীওশিশুরনিরাপত্তা #অধিকারপত্রডটকম

মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান 

সম্পাদক ও প্রকাশ 

অধিকারপত্র ডটকম